ইরানের বিরুদ্ধে ‘কঠোর আঘাত’ হানার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৭ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ (শনিবার) ইরানকে খুব কঠিনভাবে আঘাত করা হবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করতে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া—এমন দাবি উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমে। গোয়েন্দা কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সামরিক স্থাপনার অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য তেহরানকে জানানো হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নজিরবিহীন হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। মহাকাশঘেঁষা গতিপথে ছোড়া ‘ব্লু স্প্যারো’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সূত্র।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখন ‘পরবর্তী ধাপে’ প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান আইয়াল জামির। ইতোমধ্যে ইরানে ২ হাজার ৫০০টির বেশি হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা 'কেপলার' জানিয়েছে এই তথ্য।
মাত্র কয়েক দিন আগেও যাদের কোলাহলে মুখর ছিল স্কুল প্রাঙ্গণ, সেই ১৬৫ শিশুই এখন শুয়ে থাকবে পাশাপাশি কবরের সারিতে। মঙ্গলবার ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে তাদের গণজানাজায় নেমেছিল হাজারো মানুষের ঢল।
ইরানে ‘প্রয়োজন’ হলে মার্কিন স্থলসেনা পাঠানো হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেননি তিনি।
কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভুল গুলিতে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। সোমবার সেন্টকম এ তথ্য নিশ্চিত করে ঘটনাটিকে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা মিত্রপক্ষের গুলিতে দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দেশটির ৭৫ শতাংশ নাগরিক। পক্ষে আছেন মাত্র ২৫ শতাংশ। রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে ১,২৮২ জন প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান অংশ নেন।
ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ইরানের রাজধানী তেহরান টানা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে। রোববার ভোরেও দ্বিতীয় দিনের মতো ইসরায়েলি–মার্কিন হামলা অব্যাহত রয়েছে। সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক সমাধান এখন ‘সহজেই’ অর্জন করা সম্ভব।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজ দপ্তরে ‘দায়িত্ব পালনরত অবস্থায়’ তিনি নিহত হয়েছেন।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যৌথ হামলাকে ‘ইরানি শাসনের আসন্ন হুমকি নির্মূলের অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নজিরবিহীন পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। শনিবার সকাল থেকে দুবাই থেকে দোহা, মানামা থেকে এরবিল—একাধিক দেশে মিসাইল ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে বা যারা ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় ইরানে প্রাণহানির সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।
ইরানকে লক্ষ্য করে শনিবার সকালে যৌথ সামরিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। কাতারভিত্তিক আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে তেহরানের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। ইরানের ফারস সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানীর ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জামহুরি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। পরে রাজধানীর উত্তর ও পূর্বাঞ্চলেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হাজারো ফিলিস্তিনির শরীরের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এসব মানুষ অতি উচ্চ তাপে পুড়ে অঙ্গার হয়ে বাতাসে মিশে সম্পূর্ণ ‘অদৃশ্য’ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্র ব্যবহারের ফলে প্রায় ৩ হাজার ফিলিস্তিনির দেহ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে বা বাষ্পীভূত হয়ে গেছে বলে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। এ কারণে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছাড়াই ইরানে সামরিক হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে দেশটি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও ইরান ইস্যুতে প্রকাশ্যে নীরব ইসরায়েল। চলতি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানানো ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে বড় কোনো মন্তব্য আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতাই ইসরায়েলের কৌশল—তেহরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শনিবার ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস-পরিচালিত সিভিল ডিফেন্স।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা গাজা যুদ্ধে প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন—প্রথমবারের মতো এ তথ্য স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে ইসরায়েলি সাংবাদিকদের সামনে এই স্বীকারোক্তি আসে।
গাজায় মোতায়েন হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স—আইএসএফ) অংশ নিতে নীতিগত আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রকে এই অবস্থানের কথা জানায় ঢাকা।
ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকে সৌজন্য আর প্রশংসার ঘাটতি ছিল না। তবে গাজা শান্তি পরিকল্পনায় বাস্তব অগ্রগতি দেখা যায়নি।
দোহা ফোরামে গাজা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে চার দেশের কূটনৈতিক চাপ আরও জোরালো হয়েছে। যুদ্ধবিরতির জামিনদার কাতার, মিসর ও তুরস্ক—তার সঙ্গে সৌদি আরব—ইসরায়েলকে গাজা থেকে সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এসব পদক্ষেপ ছাড়া এই ভঙ্গুর শান্তি টিকবে না।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের নির্যাতনের ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক শীর্ষ আইন কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ইয়িফাত টোমার–ইরুশালমি গ্রেপ্তার হয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের নতুন করে বিমান ও স্থল হামলায় অন্তত ২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ১০ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে এটিকেই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় হামলা চলছে ইসরায়েলের। গাজার প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরুর পর গত ১০ দিনে ইসরায়েল অন্তত ৮০ বার চুক্তি ভঙ্গ করে ৯৭ জনকে হত্যা ও ২৩০ জনকে আহত করেছে।
গাজায় অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আবারও হামাসের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বললনে, ‘হামাস যদি গাজায় মানুষ হত্যা চালিয়ে যায়, তবে আমাদের কোনো বিকল্প থাকবে না, আমরা গিয়ে তাদের মেরে ফেলব।’