শিশুদের ক্ষতির দায়ে মেটাকে জরিমানা, চাপে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিও

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির দায়ে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার বিরুদ্ধে বড় রায় এসেছে। নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তে থাকা আইনি চাপকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

Mar 27, 2026 - 00:53
শিশুদের ক্ষতির দায়ে মেটাকে জরিমানা, চাপে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিও
মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির দায়ে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার বিরুদ্ধে বড় রায় এসেছে। নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তে থাকা আইনি চাপকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

মঙ্গলবার দেওয়া এই রায়ে বলা হয়, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং প্রতিষ্ঠানটি ভোক্তা সুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় লঙ্ঘন করেছে। যদিও ২০২৫ সালে মেটার ২০১ বিলিয়ন ডলারের আয়ের তুলনায় এই জরিমানা তুলনামূলক ছোট, তবুও এটি জনমতের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মামলাটি করেন নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ। তদন্তে তাঁর টিম শিশু সেজে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশ করে যৌন প্রস্তাবসহ নানা ঝুঁকিপূর্ণ অভিজ্ঞতার প্রমাণ সংগ্রহ করে। অভিযোগে বলা হয়, মেটার প্ল্যাটফর্ম লাভের জন্য ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করেছে এবং শিশুদের ঝুঁকি সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও তা গোপন রেখেছে।

তবে রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট সরাতে নিয়মিত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এদিকে, একই ধরনের আরও একাধিক মামলা এখন বিচারাধীন। লস অ্যাঞ্জেলেসে চলমান একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মেটা ইউটিউবের প্ল্যাটফর্মগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে আসক্তি তৈরির মতোভাবে ডিজাইন করা। এর আগে টিকটক স্ন্যাপ আদালতের বাইরে সমঝোতায় যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব মামলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর আইনি সুরক্ষাবিশেষ করে ১৯৯৬ সালেরকমিউনিকেশনস ডিসেন্সি অ্যাক্ট’-এর ধারা ২৩০চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বড় অঙ্কের জরিমানা ব্যবসায়িক কাঠামো পরিবর্তনের চাপও তৈরি হতে পারে।

আরও একটি বড় মামলা এই গ্রীষ্মে ক্যালিফোর্নিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন স্কুল জেলা সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে শিশুদের ক্ষতির অভিযোগ এনেছে। মামলাগুলোতে মূল যুক্তিপ্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে তৈরি, যা শিশুদের দীর্ঘসময় ধরে আটকে রাখে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যদিও কিছু গবেষক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারেআসক্তিশব্দটির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তবুও অভিভাবক, শিক্ষক আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, তবে ইতোমধ্যেই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নজরদারি জবাবদিহি বাড়ছে।

তথ্যসূত্র: এনবিসি