এপস্টেইন সম্পর্ক নিয়ে জেরার মুখে ট্রাম্প মন্ত্রিসভার সদস্য লাটনিক, রিপাবলিকানদের প্রশংসা-ডেমোক্র্যাটদের তোপ

যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কংগ্রেসে জেরার মুখে পড়েছেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক। বুধবার প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সামনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে নিজের যোগাযোগ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন।

May 6, 2026 - 23:33
এপস্টেইন সম্পর্ক নিয়ে জেরার মুখে ট্রাম্প মন্ত্রিসভার সদস্য লাটনিক, রিপাবলিকানদের প্রশংসা-ডেমোক্র্যাটদের তোপ
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক। ছবি: আনাদোলু

যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কংগ্রেসে জেরার মুখে পড়েছেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক। বুধবার প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সামনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে নিজের যোগাযোগ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন।

এপস্টেইনের ২০০৮ সালের দণ্ডের পরও তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে লাটনিককে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। যদিও শুনানিতে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো ভুল করেননি এবং তদন্তে সহযোগিতা করতেই স্বেচ্ছায় হাজির হয়েছেন।

তবে শুনানি শেষে রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট বিভক্তি দেখা যায়। কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার বলেন, লাটনিক সীমিত যোগাযোগের বিষয়েখোলামেলাছিলেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা অভিযোগ করেন, তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন এবং অসত্য তথ্য দিয়েছেন।

লাটনিক বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, যার নাম এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে উঠে এসেছে। ট্রাম্প বরাবরই এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান থাকার কথা অস্বীকার করেছেন এবং বহু আগেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচার চলাকালে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়।

শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বিশেষভাবে লাটনিকের ২০১২ সালে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে তারা অভিযোগ করেন, লাটনিক ওই সফর সম্পর্কে খুব কম তথ্য মনে আছে বলে দাবি করেন এবং কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখেননি বলে জানান।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান সুহাস সুব্রামানিয়াম বলেন, ‘তিনি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন, নার্ভাস ছিলেন এবং অসৎ আচরণ করেছেন।

এর আগে লাটনিক একাধিকবার এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছিলেন। গত বছর এক পডকাস্টে তিনি বলেছিলেন, ২০০৫ সালে এপস্টেইনের বাড়িতে একটিম্যাসাজ টেবিলদেখে অস্বস্তি হওয়ার পর তিনি আর কখনো এপস্টেইনের সঙ্গে একা কোনো কক্ষে থাকেননি। কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে তিনি এপস্টেইনের বাড়িতে এক ঘণ্টার বৈঠকে অংশ নেন এবং ২০১২ সালে পরিবারসহ এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপেও যান।

ফেডারেল নথিতে আরও দেখা গেছে, লাটনিক এপস্টেইনের মধ্যে ইমেইল যোগাযোগ ছিল। ২০১৮ সালে একটি জাদুঘর সম্প্রসারণ প্রকল্প নিয়ে তারা ইমেইলে আলোচনা করেন। এছাড়া ২০১৭ সালে লাটনিককে সম্মান জানিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এপস্টেইন ৫০ হাজার ডলার অনুদান দেন।

শুনানিতে ভিডিও ধারণ না করায়ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ভিডিও না থাকায় লাটনিক অন্যদের তুলনায় কম জনসমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে কমিটির চেয়ারম্যান কোমার বলেন, এটি তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং ডেমোক্র্যাটরা বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন।

হোয়াইট হাউস এখনো লাটনিকের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাস্তবায়নে তিনি প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে বিবেচিত হন। আগামী ২৯ মে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির সাক্ষ্য নেওয়ার কথা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনবিসি