দক্ষিণ ডালাসে বাড়ছে গৃহহীনদের অস্থায়ী বসতি, নিরাপত্তাহীনতায় স্থানীয় বাসিন্দারা
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ডালাসে দ্রুত বাড়তে থাকা গৃহহীনদের অস্থায়ী বসতিকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের বাসিন্দা উইলি মে কোলম্যান বলছেন, পরিস্থিতি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে খারাপ।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ডালাসে দ্রুত বাড়তে থাকা গৃহহীনদের অস্থায়ী বসতিকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের বাসিন্দা উইলি মে কোলম্যান বলছেন, পরিস্থিতি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে খারাপ।
বার্ট্রান্ড এলাকায় ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন কোলম্যান। তিনি জানান, আগে কখনো রাস্তায় ম্যাট্রেস বা সোফা পড়ে থাকতে দেখেননি। এখন সেগুলোই হয়ে উঠেছে পোকামাকড় ও ইঁদুরের আশ্রয়স্থল। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই উদ্বিগ্ন ও বিরক্ত। এখানে চারদিকে পোকামাকড় ঘুরছে, আর সবাই ইঁদুর নিয়ে অভিযোগ করছে।’
কোলম্যানের অভিযোগ, বাড়ির পাশের ফাঁকা জমি ও ফুটপাতে গড়ে ওঠা গৃহহীনদের অস্থায়ী বসতি থেকেই এসব সমস্যা বাড়ছে। এতে তার স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
অন্যদিকে, ওই শিবিরে বসবাসরতদের দাবি—এটি তাদের ইচ্ছার জীবন নয়, বরং বাধ্য হয়ে সেখানে থাকতে হচ্ছে। বেলেন লুহান নামের এক নারী জানান, চাকরি হারানো এবং বীমাহীন গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি ঘরহীন হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন।
চিকিৎসার খরচ মেটাতেই তার সঞ্চয়ের বেশিরভাগ শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। ‘দুর্ঘটনার পর আমাকে কয়েকবার রক্ত নিতে হয়েছে,’ বলেন লুহান।
আরেক গৃহহীন ব্যক্তি মাইকেল মোরালেস বলেন, সমাজ তাদের মানুষ হিসেবে দেখছে না। তাঁর ভাষায়, ‘অনেকে আমাদের অবহেলার চোখে দেখে, যেন আমরা মানুষই নই।’
গৃহহীনদের জন্য আরও সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই দাবি তুলেছেন স্থানীয় অধিকারকর্মীরাও। অলাভজনক সংস্থা ‘কলেকটিভ অ্যাকটিভিজম’-এর নির্বাহী পরিচালক ড. পামেলা গ্রেসন বলেন, ‘এরা কোনো সমস্যা নয় যে লুকিয়ে ফেলতে হবে, এরা মানুষ—যাদের সহায়তা দরকার।’
তার মতে, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, সাশ্রয়ী বাসস্থান, খাদ্য ও পানির মতো মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
এদিকে, ডালাস সিটি কাউন্সিল সদস্য অ্যাডাম বাজালদুয়া এক বিবৃতিতে জানান, বাসিন্দাদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, শহর কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে শিবির পরিষ্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে।
তবে বাসিন্দা ও গৃহহীনদের উভয় পক্ষই বলছে, সমস্যার টেকসই সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: ডব্লিউএফএএ