কার্যকর হলো হাই সিজ ট্রিটি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক প্রাণ রক্ষায় নতুন যুগ

আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক প্রাণ সংরক্ষণের জন্য বিশ্বের প্রথম আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তি—হাই সিজ ট্রিটি শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রায় দুই দশকের আলোচনার পর কার্যকর হওয়া এই চুক্তিকে বৈশ্বিক সমুদ্র সংরক্ষণে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Jan 17, 2026 - 13:40
কার্যকর হলো হাই সিজ ট্রিটি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক প্রাণ রক্ষায় নতুন যুগ
২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩০ শতাংশ সমুদ্র সুরক্ষার বৈশ্বিক লক্ষ্য পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি। ছবি: এনবিসি ৫

আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক প্রাণ সংরক্ষণের জন্য বিশ্বের প্রথম আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তিহাই সিজ ট্রিটি শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রায় দুই দশকের আলোচনার পর কার্যকর হওয়া এই চুক্তিকে বৈশ্বিক সমুদ্র সংরক্ষণে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চুক্তিটি কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সমুদ্রাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করবে, যা পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক পৃষ্ঠজুড়ে বিস্তৃত। অতিরিক্ত মাছ ধরা, বিধ্বংসী মাছ ধরার পদ্ধতি, প্লাস্টিক দূষণ, নৌপরিবহন সম্ভাব্য গভীর সমুদ্র খননের ঝুঁকির মুখে থাকা এই অঞ্চলগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত। সমুদ্র কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ অক্সিজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৬০টি দেশের অনুসমর্থনের ১২০ দিন পর চুক্তিটি কার্যকর হয়। শুক্রবার পর্যন্ত ৮৩টি দেশ এটি অনুসমর্থন করেছে, যার মধ্যে চীন জাপানের মতো বড় সামুদ্রিক শক্তিও রয়েছে।

হাই সিজ ট্রিটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রথমবারের মতো মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া (এমপিএ) ঘোষণার কাঠামো তৈরি হলো। বিশ্বের মোট সমুদ্রের প্রায় দুইতৃতীয়াংশ এই জলসীমায় পড়লেও বর্তমানে মাত্র শতাংশ এলাকা সুরক্ষিত।

চুক্তি অনুযায়ী, অনুসমর্থনকারী দেশগুলোকে সমুদ্রবিজ্ঞান প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে হবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করতে হবে। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হতে পারেএমন কার্যক্রমের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য সামুদ্রিক জীব নিয়ে গবেষণার তথ্য অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সংরক্ষণবাদীরা বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩০ শতাংশ সমুদ্র সুরক্ষার বৈশ্বিক লক্ষ্য পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি। তবে এমপিএগুলো কীভাবে তদারকি বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও এখনো অনুসমর্থন করেনি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দেশটি পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিতে পারবে, তবে ভোটাধিকার পাবে না। তবু আন্তর্জাতিক আইনে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো চুক্তির উদ্দেশ্য মেনে চলব-এমনটাই প্রত্যাশা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও বৈশ্বিক সমুদ্র রক্ষায় এই চুক্তি প্রমাণ করেপ্রকৃতি সংরক্ষণে সহযোগিতা এখনো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: এনবিসি ৫