ইরানে সরকার পরিবর্তনের আশায় ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও ইরান ইস্যুতে প্রকাশ্যে নীরব ইসরায়েল। চলতি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানানো ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে বড় কোনো মন্তব্য আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতাই ইসরায়েলের কৌশল—তেহরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

Feb 1, 2026 - 13:24
ইরানে সরকার পরিবর্তনের আশায় ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে ইসরায়েল
মার্কিন হামলা হলে ‘তাৎক্ষণিক ও নজিরবিহীন’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ছবি: বিবিসি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও ইরান ইস্যুতে প্রকাশ্যে নীরব ইসরায়েল। চলতি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানানো ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে বড় কোনো মন্তব্য আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতাই ইসরায়েলের কৌশলতেহরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

ইসরায়েলের সাবেক বর্তমান নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক শক্তি মোতায়েন এবং ট্রাম্পের কড়া অবস্থান নেতানিয়াহুর কাছে একটিসোনালি সুযোগ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিত্রিনোভিচের মতে, ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি পুরোপুরি ঠেকাতে হলে সীমিত হামলা নয়, সরকার পরিবর্তনই একমাত্র পথআর সেটি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া কারও পক্ষে সম্ভব নয়।

ইসরায়েলি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে নীরব থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় চলছে। চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দাপ্রধান শ্লোমি বাইন্ডার ওয়াশিংটনে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, আলোচনায় ইরানে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু নিয়েও কথা হয়েছে।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, তেহরানে সরকার বদল হলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কর্মসূচির ঝুঁকি কমবে, একই সঙ্গে দুর্বল হবে হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলো। তবে ঝুঁকিও বড়। গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে প্রাণহানি হয় এবং তেহরান এখন সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে।

সব অনিশ্চয়তার মাঝেও ইসরায়েলের ধারণাইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ, আঞ্চলিক প্রভাব হ্রাস এবং সামরিক দুর্বলতা মিলিয়ে এটিএখনই বা কখনোই নয়মুহূর্ত। তাই শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের নজর এখন ওয়াশিংটনের দিকেই, বিশেষ করে ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেন, তার ওপর।

তথ্যসূত্র: বিবিসি