মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে মার্কিন নাগরিক নিহত, নতুন করে বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন দমন অভিযানের মধ্যে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরেক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শহরজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভারী অস্ত্রধারী ফেডারেল কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন দমন অভিযানের মধ্যে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরেক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শহরজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভারী অস্ত্রধারী ফেডারেল কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হয়েছে।
মিনিয়াপোলিস পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা জানান, ৩৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি একাধিকবার গুলিবিদ্ধ হয়ে শনিবার হাসপাতালে মারা যান। তিনি মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা ও মার্কিন নাগরিক। নিহতের বাবা–মা তার পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, তার নাম আলেক্স প্রেটি এবং তিনি একজন আইসিইউ নার্স ছিলেন।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যেই এই গুলির ঘটনা ঘটল।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, একজন বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে গুলি চালান। ডিএইচএসের দাবি, প্রেটির কাছে একটি হ্যান্ডগান ছিল এবং তাঁকে নিরস্ত্র করার সময় তিনি সহিংসভাবে প্রতিরোধ করেন।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও ও অনুসন্ধানী সংগঠন বেলিংক্যাটের বিশ্লেষণে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেটি মোবাইল ফোনে এজেন্টদের ভিডিও করছিলেন। একপর্যায়ে তাঁকে মাটিতে ফেলে পেপার স্প্রে ও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। বেলিংক্যাট বলছে, প্রথম গুলি ছোড়ার আগেই প্রেটির কাছ থেকে বন্দুক সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং অধিকাংশ গুলি তাঁর নিথর হয়ে পড়ার পরই ছোড়া হয়।
পুলিশপ্রধান ও’হারা জানান, প্রেটি অনুমতিপ্রাপ্ত বৈধ অস্ত্রধারী ছিলেন। মিনেসোটায় অনুমতি থাকলে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের সুযোগ রয়েছে।
এর আগে ৭ জানুয়ারি রেনি গুড নামের এক নারী ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত হন। গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার এক ব্যক্তিকেও গুলি করা হয়। এসব ঘটনার পর থেকেই মিনিয়াপোলিসে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছে।
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়াল্জ এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ সাধারণ জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—উভয় পক্ষকেই শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি