ওবামাকেয়ার ভর্তুকি শেষ, স্বাস্থ্যবিমার খরচে চাপে মার্কিন পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ারের বাড়তি ফেডারেল ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়ায় স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে অনেক মার্কিন পরিবার পড়েছে কঠিন বাস্তবতার মুখে। বিমা বাতিল, কম সুবিধার পরিকল্পনায় যাওয়া কিংবা সঞ্চয় ভাঙার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ারের বাড়তি ফেডারেল ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়ায় স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে অনেক মার্কিন পরিবার পড়েছে কঠিন বাস্তবতার মুখে। বিমা বাতিল, কম সুবিধার পরিকল্পনায় যাওয়া কিংবা সঞ্চয় ভাঙার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।
ক্যালিফোর্নিয়ার রেনে রুবিন রস চার সদস্যের পরিবারের বিমা নিশ্চিতে ওবামাকেয়ারের ওপর নির্ভরশীল। এতদিন তাঁর মাসিক খরচ ছিল প্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলার। কিন্তু ফেডারেল ভর্তুকি বন্ধ হওয়ায় ২০২৬ সালে একই বিমা ধরে রাখতে হলে প্রতি মাসে দিতে হবে প্রায় ৪ হাজার ডলার—আগের চেয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ ডলার বেশি।
এই বাড়তি খরচ নিয়ে দিশেহারা রস বলেন, “এটা মাথায় নেওয়াই কঠিন। একে কোনোভাবেই ‘সাশ্রয়ী’ বলা যায় না।”
২০২১ সালে ভর্তুকি সম্প্রসারণের পর লাখো মানুষ কম খরচে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেয়েছিলেন। ২০২৫ সালে রেকর্ড ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ওবামাকেয়ারে নিবন্ধিত ছিলেন, যাদের বড় অংশই কর ছাড় পেয়েছেন। কিন্তু বাড়তি ভর্তুকি না থাকায় অনেকের প্রিমিয়াম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আয়ের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় কেউ কেউ পুরোপুরি ভর্তুকির বাইরে চলে গেছেন, আবার কেউ কর ছাড় পেলেও মোট প্রিমিয়ামের বড় অংশ নিজে বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে অনেকেই বিমা বাতিল করছেন বা কম প্রিমিয়ামের ‘ব্রোঞ্জ’ প্ল্যানে যাচ্ছেন, যেখানে নিজ পকেটের খরচ বেশি।
ওরেগনের গ্রামীণ এলাকার কেট ও মার্ক ডুয়ার দম্পতির ক্ষেত্রে বিমা খরচ দাঁড়াচ্ছিল তাঁদের বার্ষিক আয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশে। শেষ পর্যন্ত তারা স্বামীর বিমা রেখে স্ত্রীর বিমা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন। পেনসিলভানিয়ায় ২০২৫ সালে নিবন্ধিতদের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ শুধু ডিসেম্বরেই বিমা বাতিল করেছেন বলে জানিয়েছে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ।
ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন নিবন্ধনও কমে গেছে। বিশেষ করে আগাম অবসর নেওয়া অনেক মানুষ ৬৫ বছরে মেডিকেয়ারের আওতায় আসা পর্যন্ত ঝুঁকি নিচ্ছেন।
কংগ্রেস চাইলে ভর্তুকি পুনর্বহাল করতে পারে। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য নেই। ডেমোক্র্যাটরা ভর্তুকি ফেরানোর পক্ষে চাপ দিলেও রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে বিষয়টি নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের হিসাবে, ভর্তুকি না ফিরলে ভবিষ্যতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বিমাহীন হয়ে পড়তে পারেন।
বর্ধিত ভর্তুকি হারানোর প্রভাব পড়েছে নর্থ ক্যারোলিনার অ্যাশভিলের ইভেন্ট স্টাফিং ব্যবসার মালিক, ৬০ বছর বয়সী কাই শ্মলের ওপরও। বিমার খরচ সামাল দিতে তিনি নিজের আয় সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা একজন সফল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর স্বভাবের পরিপন্থী। শ্মল বলেন, “এটাই আমাকে করতে হচ্ছে।”
ভর্তুকি ছাড়া শ্মল ও তাঁর স্বামীর জন্য একই বিমা পরিকল্পনার মাসিক খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ডলার, যেখানে ২০২৫ সালে সেটি ছিল আনুমানিক ৬০০ ডলার। আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় বিমা ছাড়া থাকার ঝুঁকি নিতে রাজি নন তিনি। শ্মলের ভাষায়, “ঈশ্বর না করুন, যদি আবার কিছু হয়—বিমা না থাকলে আমি ভেঙে পড়তাম।”
রেনে রসও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বছরে প্রায় ৫০ হাজার ডলার শুধু স্বাস্থ্যবিমায় দেওয়ার ভাবনাই তাঁদের “ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে”। রসের এই অভিজ্ঞতা যেন আজ বহু আমেরিকান পরিবারেরই বাস্তবতা।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস