বিক্ষোভে উত্তাল মিনেসোটা, ১৫০০ সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি পেন্টাগনের

মিনেসোটায় মার্কিন সরকারের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি হিসেবে প্রায় ১,৫০০ সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাকে ‘স্ট্যান্ডবাই’ অবস্থায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম। একই সঙ্গে রাজ্য কর্তৃপক্ষ মিনেসোটা ন্যাশনাল গার্ডকেও সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।

Jan 18, 2026 - 22:22
বিক্ষোভে উত্তাল মিনেসোটা, ১৫০০ সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি পেন্টাগনের
মিনিয়াপোলিসের বিক্ষোভ চলাকালীন বিশপ হেনরি হুইপল ফেডারেল ভবনের কাছে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

মিনেসোটায় মার্কিন সরকারের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি হিসেবে প্রায় ,৫০০ সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাকেস্ট্যান্ডবাইঅবস্থায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সূত্রের বরাতে তথ্য জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম। একই সঙ্গে রাজ্য কর্তৃপক্ষ মিনেসোটা ন্যাশনাল গার্ডকেও সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।

তবে স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় রাখা মানেই সেনা মোতায়েন নিশ্চিত বা তাৎক্ষণিকএমন নয় বলে জানিয়েছে প্রশাসনিক সূত্র। সম্ভাব্য মোতায়েনের প্রস্তুতির খবর প্রথম প্রকাশ করে এবিসি নিউজ।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলাস্কাভিত্তিক ১১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের দুটি ব্যাটালিয়নকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার মতো কাজ থাকতে পারেযেমনটি গত গ্রীষ্মে লস অ্যাঞ্জেলেসে সক্রিয় সেনারা করেছিল।

হোয়াইট হাউস সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রেসিডেন্ট যে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত থাকাই পেন্টাগনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, “কমান্ডার-ইন-চিফের নির্দেশ এলে তা বাস্তবায়নে প্রতিরক্ষা বিভাগ সবসময় প্রস্তুত।

এই প্রস্তুতির খবর আসে এমন এক সময়, যখন মিনেসোটায় কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি), আইসিইসহ অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর কথা শোনা যাচ্ছে। এতে সীমিতসংখ্যক এফবিআই এজেন্টও থাকতে পারেন।

মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি জানিয়েছে, ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা এখনো শহরের রাস্তায় মোতায়েন হননি, তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত আছেন। ন্যাশনাল গার্ডের মুখপাত্র মেজর আন্দ্রেয়া সুচিয়া বলেন, প্রয়োজনে তারা যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, প্রাণ সম্পদ রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে সহায়তা দেবেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অভিবাসন অভিযান ঘিরে মিনিয়াপোলিস টুইন সিটিজ এলাকায় চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নামে তিন সন্তানের এক মায়ের নিহত হওয়ার পর থেকে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়। দেশজুড়েই এই ঘটনা ক্ষোভ উসকে দেয়।

মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে সম্ভাব্য সক্রিয় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতিকেভীতিকরসম্পূর্ণ অসাংবিধানিকবলে মন্তব্য করেছেন। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘নিজের ফেডারেল সরকারের হাতে আক্রান্ত হবএটা কখনো কল্পনাও করিনি।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পইনসারেকশন অ্যাক্টপ্রয়োগের সম্ভাবনার কথাও তুলেছিলেন, যা প্রয়োজনে রাজ্যে সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ দেয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লঁশ বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন জানান।

এদিকে এক ফেডারেল বিচারক শুক্রবার এক আদেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার কিছু ভিড় নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে ফেডারেল এজেন্টদের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। মিনিয়াপোলিস সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই আদালতের আদেশ মানার প্রত্যাশা করছে।

সব মিলিয়ে মিনেসোটায় বিক্ষোভ, আইনি লড়াই এবং সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতিএই তিনের সমন্বয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তথ্যসূত্র: সিএনএন