কলেজছাত্রীর বহিষ্কার ছিল ‘ভুল’: ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল আদালতে স্বীকার করেছে, এক কলেজছাত্রীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা ছিল ভুল এবং তা আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে করা হয়েছে। মঙ্গলবার বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতের শুনানিতে সরকারের আইনজীবী এ জন্য ক্ষমাও চেয়ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল আদালতে স্বীকার করেছে, এক কলেজছাত্রীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা ছিল ভুল এবং তা আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে করা হয়েছে। মঙ্গলবার বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতের শুনানিতে সরকারের আইনজীবী এ জন্য ক্ষমাও চান।
আদালতে জানানো হয়, বাবসন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ১৯ বছর বয়সী এনি লুসিয়া লোপেজ বেলোজাকে গত বছর বেআইনিভাবে বহিষ্কার করা হয়। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাঁর বিরুদ্ধে জারি থাকা ‘স্টে অব রিমুভাল’ বা বহিষ্কার স্থগিতের আদালত নির্দেশ অমান্য করেন বলে স্বীকার করে সরকার।
শুনানির ইলেকট্রনিক নথিতে বলা হয়, ‘সরকার সরাসরি স্বীকার করছে যে এটি একটি ভুল ছিল। তবে এই ঘটনাটি ছাড়া আদালতের জারি করা বহিষ্কার স্থগিতের আদেশ মেনে চলার রেকর্ড সরকারের রয়েছে।’
নথি অনুযায়ী, গত ২২ নভেম্বর থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে টেক্সাসে পরিবারের কাছে যাওয়ার পথে বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হন এনি লুসিয়া লোপেজ বেলোজা। এরপর তাঁকে হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়।
ছাত্রীর আইনজীবী টড পোমারলু বলেন, আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করার পরই সরকার এই ভুলের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। তিনি এনবিসি১০ বোস্টনকে বলেন, ‘পরের মঙ্গলবার থেকেই স্কুল শুরু। কিন্তু সে আদৌ ফিরতে পারবে কি না, এ নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। থ্যাংকসগিভিংয়ের এক সপ্তাহ আগেই আমরা মামলা করেছিলাম। এখনো তার ফেরার ব্যবস্থা করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’
আদালতের নথিতে আরও বলা হয়, বিচারক দেওয়ানি আদালত অবমাননার আদেশকে উপযুক্ত সমাধান হিসেবে দেখছেন না। বরং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে ছাত্রীটিকে, যাকে আদালত ‘এই ঘটনার নির্দোষ ভুক্তভোগী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
নথি অনুযায়ী, আদালত এমন উপায় বিবেচনা করছে, যাতে পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ওই ছাত্রী যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারেন। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ভিসা ইস্যু করা বা তাঁর বহিষ্কার মামলা পুনরায় খুলে প্যারোল বা পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে। বাবসন কলেজে এনি লুসিয়া লোপেজ বেলোজা পূর্ণ বৃত্তিতে পড়াশোনা করছিলেন।
তথ্যসূত্র: এনবিসি ৫