‘সূর্যকন্যা’ জয়শ্রী কবিরের নীরব প্রস্থান
বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও গুণী অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির আর নেই । গত ১২ জানুয়ারি লন্ডনের গ্রেটার লন্ডনের এসেক্স কাউন্টির রমফোর্ডে একটি নার্সিংহোমে তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। মৃত্যুর প্রায় দুই দিন পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও গুণী অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির আর নেই । গত ১২ জানুয়ারি লন্ডনের গ্রেটার লন্ডনের এসেক্স কাউন্টির রমফোর্ডে একটি নার্সিংহোমে তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। মৃত্যুর প্রায় দুই দিন পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
প্রথমে ফেসবুকে জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর খবর জানান তাঁর ভাতিজা জাভেদ মাহমুদ। সে সময় তাঁর ছেলে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছিলেন এবং পারিবারিক গোপনীয়তার কারণে গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগে আসেননি। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রচার এড়িয়ে চলার একটা প্রবণতা ছিল জয়শ্রী কবিরের।
১৯৫২ সালের ২২ জুন জন্ম নেওয়া জয়শ্রী কবির ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। ১৯৬৯ সালে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত প্রতিদ্বন্দ্বী চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর রূপালি পর্দায় অভিষেক। সেই অভিনয় তাঁকে তৎকালীন প্যারালাল সিনেমা ধারার গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ক্যারিয়ারে তিনি কলকাতায় ৪০টির বেশি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পিকনিক, সব্যসাচী, অসাধারণসহ বেশ কয়েকটি ছবিতে তিনি কাজ করেন উত্তম কুমারের মতো জনপ্রিয় অভিনেতাদের সঙ্গে। সংযত অভিনয়শৈলী ও পরিমিত উপস্থিতির জন্য তিনি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন, যদিও তিনি কখনোই বাণিজ্যিক তারকাখ্যাতির পথে হাঁটেননি।
পরবর্তী সময়ে জয়শ্রী কবির বাংলাদেশে আসেন এবং স্বাধীনতা–পরবর্তী সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা আলমগীর কবিরের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বাংলাদেশে তিনি সূর্যকন্যা, সীমানা পেরিয়ে, রূপালি সৈকতে, মোহনা ও পুরস্কারসহ অল্প কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন। সীমানা পেরিয়ে চলচ্চিত্রের ‘বিমূর্ত এই রাত্রি আমার’ গানটিতে তাঁর উপস্থিতি বিশেষভাবে স্মরণীয়। এই সময়ে বুলবুল আহমেদের সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকের নজর কেড়েছিল।
আলমগীর কবিরের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য সম্পর্ক পরে ভেঙে যায়। বাংলাদেশ ছাড়ার পর তিনি কিছুদিন কলকাতায় ছিলেন এবং পরে ছেলের সঙ্গে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। আলমগীর কবির মারা যান ১৯৮৯ সালে।
যুক্তরাজ্যে বসবাসের সময় জয়শ্রী কবির প্রায় পুরোপুরি জনজীবন থেকে সরে যান। তবে মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতেন, একটি স্কুলে ইংরেজি পড়াতেন, বিবিসি ও চ্যানেল ফোরের জন্য ভয়েসওভার করতেন। আন্তর্জাতিক পরিসরে সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্বও করেছেন তিনি।
সংযত অভিনয়, বাছাই করা কাজ এবং কলকাতা ও ঢাকার চলচ্চিত্রধারার মধ্যে সেতুবন্ধনের বিরল অবস্থানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
ডালাস বার্তা প্রতিবেদক