ইতিহাসের সর্ববৃহৎ আইপিওর পথে স্পেসএক্স, তোলা হতে পারে ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি
২০২৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পথে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স। বাজার থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তহবিল উত্তোলনের লক্ষ্য কোম্পানিটির। তালিকাভুক্ত হলে এটিই হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও।
২০২৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পথে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স। বাজার থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তহবিল উত্তোলনের লক্ষ্য কোম্পানিটির। তালিকাভুক্ত হলে এটিই হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও।
পুরো স্পেসএস্কের মূল্যায়ন ধরা হচ্ছে প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। যা ২০১৯ সালে তালিকাভুক্তির সময় সৌদি আরামকোর প্রতিষ্ঠিত বাজার মূল্যের কাছাকাছি চলে আসবে। তখন তেলনির্ভর আরামকো ২৯ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল।
নতুন বছরের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে স্পেসএক্সের আইপিও হতে পারে। তবে বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সময় পিছিয়ে ২০২৭ সালেও গড়াতেও পারে। স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে আসতে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য মহাকাশ-সম্পর্কিত কোম্পানির শেয়ার দামও লাফিয়ে বেড়েছে—স্পেকট্রাম লাইসেন্স বিক্রির চুক্তি থাকা ইকোস্টারের শেয়ার ১২% পর্যন্ত বেড়ে নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। রকেট ল্যাবও ৪% এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্পেসএক্সের দ্রুত আইপিও পরিকল্পনার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে স্টারলিংকের দ্রুত বিস্তার। সরাসরি মোবাইলে ইন্টারনেট দেওয়ার সম্ভাবনা এবং স্টারশিপ রকেট উন্নয়নের মতো বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে স্টারলিংক। ২০২৫ সালে কোম্পানির আয়ের লক্ষ্য ১৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালে ২২–২৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে; অধিকাংশই আসবে স্টারলিংক থেকে।
আইপিও থেকে তোলা অর্থের একটি অংশ দিয়ে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা স্পেসএক্সের। এর জন্য প্রয়োজনীয় চিপ কেনার প্রস্তুতিও চলছে। সাম্প্রতিক সেকেন্ডারি শেয়ার বিক্রিতে শেয়ারের মূল্য ৪২০ ডলার ধরা হয়েছে, যা কোম্পানির বর্তমান মূল্যায়নকে ৮০০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে নিয়ে গেছে।
মাস্ক বলেন, স্পেসএক্স বহু বছর ধরেই লাভজনক এবং প্রতি ছয় মাসে কর্মীদের জন্য শেয়ার বিক্রি ও কিনে নেওয়ার সুযোগ থাকে। স্টারলিংক ও স্টারশিপের অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক ডিরেক্ট-টু-সেল স্পেকট্রাম নিশ্চিতকরণই মূল্যায়ন বাড়ার কারণ।
স্টারলিংককে আলাদা করে শেয়ারবাজারে তোলার ভাবনা বহুবার উঠলেও মাস্ক ও কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, সেই সিদ্ধান্ত আরও কয়েক বছর পরে হতে পারে। বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আছেন ফাউন্ডার্স ফান্ড, ১৩৭ ভেঞ্চার্স, ভ্যালর ইকুইটি পার্টনার্স, ফিডেলিটি ও গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট।
যদি স্পেসএক্স ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্যায়নে মাত্র ৫% শেয়ারও বিক্রি করে, তবু প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার তুলতে পারবে—যা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও। হবে নিঃসন্দেহে মহাকাশ ব্যবসার নতুন যুগের সূচনাও।
তথ্যসূত্র: ব্লুমবার্গ