গ্রিনল্যান্ড কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হতে পারে ৭০০ বিলিয়ন ডলার
গ্রিনল্যান্ড কেনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ ৭০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত গুনতে হতে পারে—খরচের ওই হিসাবের সঙ্গে পরিচিত তিনজন ব্যক্তির বরাতে এমন তথ্য জানা গেছে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও গবেষকদের করা এই হিসাব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ–সংক্রান্ত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড কেনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ ৭০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত গুনতে হতে পারে—খরচের ওই হিসাবের সঙ্গে পরিচিত তিনজন ব্যক্তির বরাতে এমন তথ্য জানা গেছে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও গবেষকদের করা এই হিসাব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ–সংক্রান্ত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
৮ লাখ বর্গমাইলের এই দ্বীপটি ট্রাম্পের অধিগ্রহণের আকাঙ্ক্ষাকে ঘিরে যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তার অংশ হিসেবে গবেষক ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা এই ব্যয়ের হিসাব তৈরি করেছেন। আর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে কৌশলগত বাফার হিসেবে গ্রিনল্যান্ডকে দেখছেন ট্রাম্প। এই হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রতিরক্ষা দপ্তরের বার্ষিক বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীকে আটকাতে মার্কিন সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার পর গ্রিনল্যান্ড দখলের বক্তব্য জোরালো হওয়ায় ইউরোপজুড়ে এবং ক্যাপিটল হিলে উদ্বেগও বেড়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে গ্রিনল্যান্ড কেনার একটি প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বিষয়টি ‘উচ্চ অগ্রাধিকার’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—উভয় পক্ষই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। ডেনিশ সরকারের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তারাও ট্রাম্পের ‘একভাবে বা অন্যভাবে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের হবে’—এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বুধবার ওয়াশিংটনে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। বৈঠকের আগে গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোট্জফেল্ড বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না এবং ডেনমার্কের সঙ্গেই থাকতে চায়।
গ্রিনল্যান্ডের ব্যবসা ও খনিজসম্পদমন্ত্রী নাজা নাথানিয়েলসেন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বার্তায় দেশটির জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ‘আমাদের আমেরিকান হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।’
বর্তমানে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে পারে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। প্রশাসনের ভেতরে কেউ কেউ সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথাও বললেও, অন্যদের মতে, কেনা বা বিশেষ নিরাপত্তা চুক্তির পথেই এগোতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে এক জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তথ্যসূত্র: এনবিসি নিউজ