ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার ভয়াবহ বিস্তার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বা সুপারবাগ, যা সাধারণ সংক্রমণকেও প্রাণঘাতী করে তুলছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বা সুপারবাগ, যা সাধারণ সংক্রমণকেও প্রাণঘাতী করে তুলছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
ডব্লিউএইচও জানায়, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে পরীক্ষাগারে শনাক্ত হওয়া প্রতি ছয়টি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের মধ্যে একটি অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসায় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এতে বহু জীবনরক্ষাকারী ওষুধ কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
ডব্লিউএইচও-র অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিভাগীয় প্রধান ইয়ভান হুটিন বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ বাড়তে থাকায় চিকিৎসার বিকল্প কমে আসছে, যা জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে।’
মূত্রনালী, রক্তপ্রবাহ, পরিপাকতন্ত্র ও যৌনবাহিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ২২ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর নজরদারিতে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে ৪০ শতাংশ ওষুধের কার্যকারিতা কমেছে। গড়ে প্রতিবছর প্রতিরোধ বেড়েছে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত।
বিশ্বজুড়ে মূত্রনালী সংক্রমণে ব্যবহৃত সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর প্রতিরোধের হারই এখন ৩০ শতাংশের বেশি। বিশেষ করে ই. কোলাই ও ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া—এই দুই ব্যাকটেরিয়া মারাত্মক রক্ত সংক্রমণ, সেপসিস ও অঙ্গ বিকলতার কারণ হয়ে উঠছে।
বর্তমানে ই. কোলাই সংক্রমণের ৪০ শতাংশ এবং ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া সংক্রমণের ৫৫ শতাংশই তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিকে প্রতিরোধী হয়ে পড়েছে, যা এসব রোগের প্রথম সারির চিকিৎসা।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, ‘ওষুধ প্রতিরোধ আধুনিক চিকিৎসার অগ্রগতিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, এটি বিশ্বজুড়ে পরিবারগুলোর স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের সর্বোচ্চ হার দেখা গেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে, যেখানে প্রতি তিনটি সংক্রমণের একটি প্রতিরোধী। আফ্রিকায় প্রতি পাঁচটির একটি সংক্রমণ ওষুধে সাড়া দিচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নতুন অ্যান্টিবায়োটিক বা কার্যকর পরীক্ষা পদ্ধতির ঘাটতির কারণে ভবিষ্যতে এই সুপারবাগগুলো বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকিকে ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।
হুটিন বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিকের অতিব্যবহার, প্রতিরোধ বৃদ্ধির গতি এবং নতুন ওষুধের অভাব-সব মিলিয়ে মানবজাতির জন্য এক ভয়ংকর সংকেত তৈরি করছে।’
তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ