ভেনেজুয়েলার তেল রাজস্ব রক্ষায় নির্বাহী আদেশে সই ট্রাম্পের
ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি হিসাবে জব্দ হওয়া ঠেকাতে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই আদেশের মাধ্যমে আদালত বা পাওনাদারদের হাত থেকে ভেনেজুয়েলার তেল আয়ের অর্থ রক্ষা করা হবে।
ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি হিসাবে জব্দ হওয়া ঠেকাতে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই আদেশের মাধ্যমে আদালত বা পাওনাদারদের হাত থেকে ভেনেজুয়েলার তেল আয়ের অর্থ রক্ষা করা হবে।
জরুরি ক্ষমতাবলে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, বিদেশি সরকারের আমানত তহবিলে থাকা এই অর্থ ভেনেজুয়েলার ভেতরেই ‘শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা’ তৈরিতে ব্যবহার করা উচিত। শুক্রবার আদেশে সই করেছেন ট্রাম্প। কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ঘটল এই ঘটনা।
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক কোম্পানির বড় অঙ্কের অর্থের দাবি রয়েছে। সম্পদ জাতীয়করণের জেরে প্রায় ২০ বছর আগে দেশটি ছাড়ে এক্সন মবিল ও কনোকোফিলিপস। তাদের দাবি, ভেনেজুয়েলার কাছে এখনও তাদের কয়েক বিলিয়ন ডলার পাওনা।
কনোকোফিলিপসের সিইও রায়ান ল্যান্স শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, ভেনেজুয়েলায় প্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে বড় বেসরকারি পাওনাদার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামনে হারানো অবস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ আছে। ট্রাম্প বলেন, কনোকোফিলিপস তাদের অর্থের বড় অংশ ফেরত পাবে, তবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুরু করবে। ল্যান্স জানান, তাদের পাওনা ১২ বিলিয়ন ডলার। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো রাইট-অফ।’
ট্রাম্প বলেন, কনোকোফিলিপস তাদের হারানো টাকার বড় একটা অংশ ফেরত পাবে, তবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুরু করবে। তিনি বলেন, “অতীতে মানুষ কী হারিয়েছে, সেটা আমরা দেখব না—ওটা তাদেরই দোষ ছিল।” এরপর ট্রাম্প ল্যান্সকে জিজ্ঞেস করেন, ভেনেজুয়েলায় কনোকোফিলিপসের কত ক্ষতি হয়েছে।
শনিবারের নির্বাহী আদেশে কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম নেই। এতে বলা হয়েছে, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা ভেনেজুয়েলার সার্বভৌম সম্পত্তি এবং সরকারি ও কূটনৈতিক কাজে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত—এটি বেসরকারি দাবির আওতায় পড়বে না।
হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, ভেনেজুয়েলার তেল আয়ের অর্থ জব্দ হলে দেশটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে—এই আদেশ তা ঠেকাবে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের সঙ্গে চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়, যা পরিশোধনে দেশটির তেল পরিশোধনাগারগুলো উপযোগী।
আইনি ভিত্তি হিসেবে ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট এবং ১৯৭৬ সালের ন্যাশনাল এমার্জেন্সিস অ্যাক্টের কথা উল্লেখ করেন।
এদিকে, একই দিনে ওয়াশিংটনে এক্সন, কনোকোফিলিপস, শেভরনসহ বড় তেল কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে উৎসাহ দিতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স