ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় পাখা গুটালো স্পিরিট এয়ারলাইনস
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জেট ফুয়েলের আকাশচুম্বী দাম ও সরকারি বেলআউট ব্যর্থতায় কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন স্পিরিট এয়ারলাইনস।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জেট ফুয়েলের আকাশচুম্বী দাম ও সরকারি বেলআউট ব্যর্থতায় কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন স্পিরিট এয়ারলাইনস।
শনিবার (০২ এপ্রিল) ভোর থেকে সব ফ্লাইট বাতিল করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত স্পিরিটের ৪,১১৯টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল, যেখানে আসন ছিল প্রায় ৮ লাখ ১০ হাজার। দুই মাসের ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এপ্রিলের শেষে যুক্তরাষ্ট্রে জেট ফুয়েলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪.৫১ ডলারে পৌঁছে—যা কোম্পানির পূর্বাভাসের দ্বিগুণেরও বেশি।
ঋণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেউলিয়াত্ব থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল স্পিরিট, তবে জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেলআউট প্রস্তাব দিলেও কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের বিরোধিতায় তা অনুমোদন পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, অন্য এয়ারলাইনসকে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও কেউ আগ্রহ দেখায়নি।
স্পিরিটের সর্বশেষ ফ্লাইটটি ডেট্রয়েট থেকে ডালাসে অবতরণ করেছে। বর্তমানে ১,৩০০-এর বেশি ক্রুকে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরাসরি টিকিট কেনা যাত্রীদের অর্থ ফেরতের জন্য জরুরি তহবিল গঠন করা হয়েছে। যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে ইউনাইটেড, ডেল্টা, জেটব্লু, সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনস, স্পিরিট এয়ারলাইনসের টিকিটধারীদের জন্য ২০০ ডলারে একমুখী ভাড়ার অফার দিয়েছে।
এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের মোট ফ্লাইটের প্রায় ৫ শতাংশ পরিচালনা করত স্পিরিট। গত দুই দশকে এত বড় কোনো মার্কিন এয়ারলাইনসের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে দুর্বল এয়ারলাইনসগুলোও চাপে পড়েছে। জ্বালানি ব্যয়ের কারণে জার্মানির লুফথানসা গত মাসে ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে। আর ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া ভাড়া বাড়ানো ও প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ফ্লাইট কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা