‘ইরানের হাতে অপমানিত যুক্তরাষ্ট্র’ বলায় জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা

ইরান যুদ্ধ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্ৎজের কড়া সমালোচনার পর জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে পেন্টাগন। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

May 1, 2026 - 23:58
‘ইরানের হাতে অপমানিত যুক্তরাষ্ট্র’ বলায় জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্ৎজ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এক্স

ইরান যুদ্ধ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্ৎজের কড়া সমালোচনার পর জার্মানি থেকে প্রায় হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে পেন্টাগন। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আগামী থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, ইউরোপে সেনা মোতায়েন নিয়ে সামগ্রিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ের প্রয়োজন কৌশলগত বিবেচনাই এখানে মূল ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে মার্ৎজের সাম্প্রতিক মন্তব্য। ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কার্যতঅপমানিতহচ্ছে এবং কোনো সুস্পষ্ট কৌশল ছাড়াই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, ইরান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যর্থ করছে এবং পুরো পরিস্থিতিবিচার-বিবেচনাহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

মার্ৎজের এমন বক্তব্যের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা মন্তব্য করেন, ইরান বিষয়ে জার্মান চ্যান্সেলরকী বলছেন, তা তিনি নিজেই জানেন না।এর পরদিনই ট্রাম্প প্রশাসন জার্মানিতে সেনা কমানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখার ঘোষণা দেয়।

তবে হাজার সেনা প্রত্যাহারের পরও জার্মানিতে ৩০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকবে। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রামস্টেইন ঘাঁটি থেকে ইউরোপজুড়ে বিমান পরিবহন, সরঞ্জাম সরবরাহ চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে ন্যাটোরও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে।

ইউএস ডিফেন্স ম্যানপাওয়ার ডেটা সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জার্মানিতে ৩৬ হাজার ৪৩৬ জন মার্কিন সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন ছিল।

ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে টানাপোড়েন ক্রমেই বাড়ছে। ন্যাটো মিত্রদের অনেককে না জানিয়েই যুদ্ধ শুরু করায় ইউরোপে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আবার পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় মিত্রদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। এরই ধারাবাহিকতায় ইতালি স্পেন থেকেও সেনা কমানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি।

জার্মানি সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে এসব ঘাঁটি থেকে সরাসরি হামলার অনুমোদন দেয়নি বার্লিন। যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে আরও সহায়তার আশ্বাস দিলেও, জার্মানির এই সীমিত ভূমিকা ট্রাম্প প্রশাসনকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

এর আগে ২০২০ সালেও নিজের প্রথম মেয়াদে জার্মানি থেকে সেনা কমানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। নতুন এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র তার ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি করছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন