আপনার দেখার অপেক্ষায় নর্থ টেক্সাসের ফেব্রুয়ারির আকাশ
ফেব্রুয়ারি মাসে নর্থ টেক্সাসের আকাশে চোখ রাখলে দেখা মিলবে একাধিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার। পূর্ণিমা, সন্ধ্যার আকাশে বুধগ্রহের উজ্জ্বল উপস্থিতি, মাসের শেষে বিরল ছয় গ্রহের সারিবদ্ধতা—সব মিলিয়ে রাত ও ভোরের আকাশ হবে দর্শনীয়।
ফেব্রুয়ারি মাসে নর্থ টেক্সাসের আকাশে চোখ রাখলে দেখা মিলবে একাধিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার। পূর্ণিমা, সন্ধ্যার আকাশে বুধগ্রহের উজ্জ্বল উপস্থিতি, মাসের শেষে বিরল ছয় গ্রহের সারিবদ্ধতা—সব মিলিয়ে রাত ও ভোরের আকাশ হবে দর্শনীয়।
মাসের শুরুতেই পূর্ণিমা
ফেব্রুয়ারির শুরু হয়েছে পূর্ণিমা দিয়ে। ১ ফেব্রুয়ারি রোববার রাতে আকাশে উঠেছিল বছরের দ্বিতীয় পূর্ণিমা। সূর্যাস্তের পর পূর্ব দিগন্তে চাঁদ ওঠার সময়ই যা দেখার সেরা সুযোগ।
এই পূর্ণিমা ‘স্নো মুন’ নামে পরিচিত। উত্তর গোলার্ধে ভারী তুষারপাতের সময়কে নির্দেশ করে এটি। শীতের সবচেয়ে কঠিন সময়, সহনশীলতা ও ধৈর্যের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়ে থাকে এই চাঁদকে। একে ‘স্টর্ম মুন’, ‘ট্র্যাপারস মুন’ ও ‘হাঙ্গার মুন’ নামেও ডাকা হয়।
সন্ধ্যার আকাশে বুধগ্রহ
ফেব্রুয়ারিতে সন্ধ্যার আকাশে বুধগ্রহ দেখার দারুণ সুযোগ মিলবে। ১০ ফেব্রুয়ারি সূর্যাস্তের প্রায় ৩০ মিনিট পর পশ্চিম দিগন্তে দিগন্তের ওপরে প্রায় ৭ ডিগ্রি উচ্চতায় বুধগ্রহ দেখা যাবে। তখন এটি এতটাই উজ্জ্বল থাকবে যে সন্ধ্যার আলোতেও খালি চোখে ধরা পড়তে পারে। সেদিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে গ্রহটি অস্ত যাবে।
১৩ ফেব্রুয়ারিতে সূর্যাস্তের প্রায় ৮০ মিনিট পর বুধগ্রহ অস্ত যাবে। আর ১৯ ফেব্রুয়ারিতে সূর্যের সঙ্গে সর্বোচ্চ দূরত্বে পৌঁছাবে বুধ—এটাই হবে চলতি বছরের বুধগ্রহ দেখার সেরা সময়। সূর্যাস্তের ৪০–৪৫ মিনিট পর পশ্চিম আকাশের নিচু অংশে তাকালেই গ্রহটি দেখা যেতে পারে।
মাসের শেষে ‘গ্রহের মিছিল’
মাসের শেষ দিকে মিলবে বিরল এক দৃশ্য—ছয় গ্রহের সারিবদ্ধতা বা ‘প্ল্যানেট প্যারেড’। ২৮ ফেব্রুয়ারি সূর্যাস্তের ১৫–৩০ মিনিট পর পশ্চিম দিগন্তে বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুনকে একটি উজ্জ্বল ধনুকের মতো সারিবদ্ধ অবস্থায় দেখা যাবে।
বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি ও শনি খালি চোখে দেখা সম্ভব হলেও ইউরেনাস ও নেপচুন দেখতে দূরবীন বা টেলিস্কোপের প্রয়োজন হতে পারে।
চাঁদের কলা ও কক্ষপথ
চন্দ্রমাসে চাঁদের আটটি কলা থাকে—নতুন চাঁদ, ক্রমবর্ধমান অর্ধচন্দ্র, প্রথম চতুর্থাংশ, ক্রমবর্ধমান গিবাস, পূর্ণিমা, ক্ষয়মান গিবাস, তৃতীয় চতুর্থাংশ ও ক্ষয়মান অর্ধচন্দ্র। ফেব্রুয়ারিতে চাঁদের কক্ষপথ হবে উপবৃত্তাকার। ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে (সিএসটি) চাঁদ থাকবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে—অ্যাপোজিতে, দূরত্ব হবে প্রায় ২ লাখ ৫১ হাজার মাইল। আর ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ৩ মিনিটে চাঁদ থাকবে সবচেয়ে কাছে—পেরিজিতে, দূরত্ব প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মাইল।
এই মাসে পৃথিবীর যাত্রা
প্রথমেই বলা যায়, পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি মোটামুটি স্থির। তবে এই গতির পরিমাণ নির্ভর করে আপনি পৃথিবীর কোন জায়গায় আছেন তার ওপর। যেমন, বিষুবরেখায় পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি ঘণ্টায় প্রায় ১,০৩৭ মাইল।
তবে মহাকাশে আমাদের চলাচল শুধু পৃথিবীর নিজের ঘূর্ণনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে ঘণ্টায় প্রায় ৬৭,০০০ মাইল গতিতে। এই গতিতে চললে লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক যেতে সময় লাগবে মাত্র প্রায় তিন মিনিট।
সূর্যের চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ পৃথিবী প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ মাইল পথ অতিক্রম করেছে। কারণ, এই যাত্রা নতুন করে শুরু হয়েছে ১ জানুয়ারি রাত ১২টা থেকে। সামনে এখনো বাকি আছে প্রায় ৪৮ কোটি ৯৬ লাখ মাইল পথ!
অ্যাস্ট্রোনমি ১০১: ভয়েজার কোথায়?
ভয়েজার–১ ও ভয়েজার–২ এখনো আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে তাদের যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৭ সালে উৎক্ষেপণ করা ভয়েজার–১ বর্তমানে পৃথিবী থেকে ১৫ বিলিয়নের বেশি মাইল দূরে—মানবসৃষ্ট সবচেয়ে দূরবর্তী বস্তু। এটি বৃহস্পতি ও শনি অতিক্রম করে এখনও তথ্য পাঠাচ্ছে।
ভয়েজার–২ বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন অতিক্রম করেছে। দুই মহাকাশযানেই রয়েছে সোনালি আবরণে মোড়ানো অডিও-ভিজ্যুয়াল ডিস্ক, যেখানে পৃথিবীর জীবন ও সংস্কৃতির পরিচয় সংরক্ষিত—ভিনগ্রহের কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর কাছে পৌঁছালে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আশায়।
ফেব্রুয়ারির আকাশে এসব দৃশ্য উপভোগ করতে ভুলবেন না। নর্থ টেক্সাসবাসী, আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকুন।
তথ্যসূত্র: এনবিসি ৫