কোরিয়ান টাস্কভিত্তিক গেমে আসক্তির অভিযোগ: গাজিয়াবাদে তিন কিশোরী বোনের মৃত্যুর তদন্ত
ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে একটি আবাসিক ভবনের নবম তলা থেকে লাফিয়ে তিন কিশোরী বোনের মৃত্যুর ঘটনায় কোরিয়ান একটি টাস্কভিত্তিক অনলাইন গেমে আসক্তির অভিযোগ উঠে এসেছে। পুলিশ বলছে, এটিকে আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এবং তবে তিন বোনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে একটি আবাসিক ভবনের নবম তলা থেকে লাফিয়ে তিন কিশোরী বোনের মৃত্যুর ঘটনায় কোরিয়ান একটি টাস্কভিত্তিক অনলাইন গেমে আসক্তির অভিযোগ উঠে এসেছে। পুলিশ বলছে, এটিকে আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এবং তবে তিন বোনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিহতরা হলেন নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে তারা স্কুলে যেত না। বড় বোন নিশিকা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে হাতে লেখা একাধিক কাগজ ও একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। নোটে তিন বোন অনলাইন কোরিয়ান গেম ছাড়া বাঁচতে না পারার কথা উল্লেখ করেছে। পরিবার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ‘কোরিয়ান লাভ গেম’ নামে একটি টাস্কভিত্তিক গেমে অতিমাত্রায় আসক্ত ছিল।
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই গেমে প্রায় ৫০টি টাস্ক রয়েছে। পুলিশ জানায়, বোনেরা নিজেদের মধ্যে কোরিয়ান নাম ব্যবহার করত এবং নিজেদের কোরিয়ান পরিচয়ে কল্পনা করত। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও গেমসংক্রান্ত সব তথ্য ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
নিহতদের বাবা চেতন কুমার জানান, সুইসাইড নোটে লেখা ছিল—‘দুঃখিত বাবা, আমরা কোরিয়াকে ছেড়ে যেতে পারি না। কোরিয়াই আমাদের জীবন।’ পুলিশের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মেয়েদের মোবাইল ব্যবহারে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল, যা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।
ডিসিপি নিমিশ পাতিল ও সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার সিংহ বলেন, ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গেমটির প্রকৃতি, মেয়েদের মানসিক অবস্থা এবং পারিবারিক পরিস্থিতি—সবকিছু বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগোচ্ছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া