নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় কি জড়িয়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া
শেষ কার্যকর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নিউ স্টার্টের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে ৫ ফেব্রুয়ারি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে স্নায়ু যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।
শেষ কার্যকর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নিউ স্টার্টের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে ৫ ফেব্রুয়ারি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে স্নায়ু যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।
নিউ স্টার্টের মেয়াদ শেষ হলে দুই দেশের দীর্ঘ-পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ওয়ারহেডের ওপর আর কোনো আইনি সীমা থাকবে না। ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ঐতিহাসিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির পর এটাই হবে প্রথমবার, যখন এমন শূন্যতা তৈরি হবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক বছরের জন্য বিদ্যমান সীমা বজায় রাখার প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেননি। ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তির বদলে ‘আরও ভালো’ একটি নতুন চুক্তি হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে—কেউ কেউ মনে করছেন, চীনের দ্রুত বাড়তে থাকা পারমাণবিক সক্ষমতার মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি শুধু সংখ্যা সীমিত করে না, বরং তথ্য আদান–প্রদানের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি কমায়। নতুন কোনো চুক্তি না থাকলে উভয় পক্ষই সবচেয়ে খারাপ অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
নতুন চুক্তি করাও সহজ নয়। রাশিয়ার নতুন ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা কৌশলগত ভারসাম্যকে জটিল করে তুলেছে। এর বাইরে থেকেই চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বাড়ছে।
সমঝোতা না হলে বিশ্ব আবারও বড় ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়াতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন বাড়ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স