সরবরাহ সংকটে তেলের বাজার, বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে
মাত্র ছয় সপ্তাহ আগেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ছিল চাহিদার চেয়ে বেশি। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে—এখন বাজার আচরণ করছে যেন বড় ধরনের তেল সংকট আসন্ন।
মাত্র ছয় সপ্তাহ আগেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ছিল চাহিদার চেয়ে বেশি। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে—এখন বাজার আচরণ করছে যেন বড় ধরনের তেল সংকট আসন্ন।
বর্তমানে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। জরুরি মজুত বা ওপেকের উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাজারে এর প্রতিফলনও স্পষ্ট। স্বল্পমেয়াদি তেলের দাম ভবিষ্যৎ চুক্তির তুলনায় বেশি—যা ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’-এর ইঙ্গিত, অর্থাৎ সামনে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে, আর স্পট মার্কেটে তা ১৪০ ডলারের ওপরে উঠে ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সংকট আরও তীব্র হবে। জ্বালানি বাজারে এখন সরবরাহের চেয়ে আতঙ্কই বেশি কাজ করছে।
সংকটের প্রভাব পড়ছে পরিশোধিত জ্বালানিতেও। গত এক মাসে জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে, ফলে এয়ারলাইনগুলো ফ্লাইট কমানো ও ভাড়া বাড়ানোর পথে হাঁটছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ারলাইন ইতোমধ্যে আগামী ছয় মাসে ফ্লাইট ৫ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করেছে।
এদিকে বিশ্বের বড় রপ্তানিকারক সৌদি আরব তেলের ওপর রেকর্ড প্রিমিয়াম নিচ্ছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার গ্রাহকদের কাছে আরব লাইট ক্রুডের বেঞ্চমার্কের তুলনায় ১৯.৫০ ডলার বেশি এবং ইউরোপে ব্রেন্টের তুলনায় সর্বোচ্চ ৩০ ডলার বেশি দামে তেল সরবরাহ করছে সৌদি আরব। অন্যদিকে চীন, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়া রপ্তানি সীমিত করেছে, আর রাশিয়া পেট্রল রপ্তানি বন্ধ করেছে।
চাহিদা নিয়ন্ত্রণে কিছু দেশ রেশনিং শুরু করেছে। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে এর প্রভাব দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের সতর্কতা, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে ডিজেল ও পেট্রলের ঘাটতি দ্রুত বৈশ্বিক অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন