বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত শুরু

বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত উৎপাদন মার্কিন শিল্পখাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ, ভারতসহ একাধিক বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

Mar 12, 2026 - 14:05
বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত শুরু

বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত উৎপাদন মার্কিন শিল্পখাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি নাতা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ, ভারতসহ একাধিক বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১-এর অধীনে এই তদন্ত শুরু করে। সাধারণত বিদেশি দেশেরঅন্যায্য বাণিজ্য আচরণমোকাবিলায় ওয়াশিংটন এই আইনি পদক্ষেপ নেয়।

ইউএসটিআর জানায়, তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাণিজ্যিক নীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যঅযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলককি না এবং তা মার্কিন বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করছে কি না।

বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান ভারত।

ইউএসটিআর এক বিবৃতিতে জানায়, সরবরাহ শৃঙ্খল দেশে ফিরিয়ে আনা এবং মার্কিন শ্রমিকদের জন্য উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই এই তদন্তের লক্ষ্য।

ইউএসটিআর রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার বলেন, অন্যান্য দেশ তাদের অতিরিক্ত উৎপাদনের বোঝা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দিলে তা আর মেনে নেওয়া হবে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিল্পায়ন নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক বাণিজ্যিক অংশীদার তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পণ্য উৎপাদন করছে, যা মার্কিন শিল্পকে চাপের মুখে ফেলছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় .১৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের কথা উল্লেখ করে ইউএসটিআর জানায়, এর বড় অংশ এসেছে টেক্সটাইল পোশাক খাত থেকে। সরকার এই খাতসহ ৪৩টি শিল্পে রপ্তানি প্রণোদনা দেয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পেও অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ইউএসটিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে সিমেন্টের ব্যবহার ছিল প্রায় ৩৮ মিলিয়ন টন, যা মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৪০ শতাংশেরও কম। ২০২৫ সালে এই ব্যবহার আরও কমেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত বিদেশি প্রতিযোগিতার কারণে কিছু খাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়েছে অথবা পিছিয়ে পড়েছে।

ডালাস বার্তা প্রতিবেদক