কারমেলো অ্যান্থনি হত্যা মামলায় জুরি চূড়ান্ত, নেই কোনো কৃষ্ণাঙ্গ সদস্য
টেক্সাসের ফ্রিসকোতে স্কুল ট্র্যাক মিটে ১৭ বছর বয়সী অস্টিন মেটকাফকে ছুরিকাঘাতে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত কারমেলো অ্যান্থনির বিচার শুরুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। বুধবার কোলিন কাউন্টি আদালতে ১২ সদস্যের জুরি বোর্ড চূড়ান্ত করা হয়েছে, তবে সেখানে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ জুরি সদস্য স্থান পাননি।
টেক্সাসের ফ্রিসকোতে স্কুল ট্র্যাক মিটে ১৭ বছর বয়সী অস্টিন মেটকাফকে ছুরিকাঘাতে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত কারমেলো অ্যান্থনির বিচার শুরুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। বুধবার কোলিন কাউন্টি আদালতে ১২ সদস্যের জুরি বোর্ড চূড়ান্ত করা হয়েছে, তবে সেখানে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ জুরি সদস্য স্থান পাননি।
২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ফ্রিসকোর কুইকেনডাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক আঞ্চলিক ট্র্যাক প্রতিযোগিতায় এ ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীদের মতে, স্ট্যান্ডে বসার জায়গা নিয়ে অ্যান্থনি ও মেটকাফের মধ্যে তর্কের একপর্যায়ে অ্যান্থনি পকেট ছুরি দিয়ে মেটকাফের বুকে আঘাত করেন। পরে মেটকাফের মৃত্যু হয়।
জুরি নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময় প্রতিরক্ষা পক্ষ অভিযোগ তোলে যে, প্রসিকিউশন তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী সম্ভাব্য জুরিকে বাদ দিয়েছে। তারা আদালতে ‘ব্যাটসন চ্যালেঞ্জ’ উত্থাপন করে দাবি করে, একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা এক শ্বেতাঙ্গ নারীকে রাখা হলেও কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রসিকিউটররা জানান, বর্ণগত কারণে নয়, বরং তিনজনই শিক্ষক বা শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি একটি স্কুল-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে ঘটেছিল, তাই শিক্ষকদের জুরিতে রাখতে তারা অনাগ্রহী ছিলেন। বিচারক জন রোচ প্রসিকিউশনের ব্যাখ্যা গ্রহণ করে তাদের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
এর ফলে গঠিত ১২ সদস্যের জুরিতে নারী ও পুরুষ উভয়ই থাকলেও কোনো কৃষ্ণাঙ্গ সদস্য নেই।
বিচার চলাকালে ১৮ বছর বয়সী অ্যান্থনি আদালতে বেগুনি রঙের শার্ট, স্যুট ও টাই পরে উপস্থিত হন। বেগুনি রঙ তার সমর্থকদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আদালতে তাকে বেশিরভাগ সময় গম্ভীর দেখা গেলেও মাঝে মাঝে নোট নিতে দেখা গেছে।
প্রসিকিউশনের সহকারী জেলা অ্যাটর্নি ডিউই মিচেল সম্ভাব্য জুরিদের উদ্দেশে বলেন, তারা যেন খোলা মনে সাক্ষ্য-প্রমাণ শোনেন এবং আইন অনুযায়ী রায় দেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা আইনজীবী মাইক হাওয়ার্ড জানান, মামলার মূল প্রশ্ন হবে—ঘটনার দিন অ্যান্থনি আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছিলেন কি না।
প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি, অ্যান্থনি আত্মরক্ষার্থেই ছুরিকাঘাত করেছিলেন। গ্রেপ্তারের পরপরই তিনি পুলিশকে বলেছিলেন, “আমি নিজেকে রক্ষা করছিলাম” এবং “সে আমার গায়ে হাত দিয়েছিল।”
প্রসিকিউশনকে আদালতে প্রমাণ করতে হবে যে, অ্যান্থনি আত্মরক্ষার জন্য নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।
মামলাটি ঘিরে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা, গুজব ও বর্ণগত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে আদালতকক্ষের ভেতরে ক্যামেরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
প্রসিকিউশনের প্রস্তুত করা ৩৫ জন সাক্ষীর তালিকা অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। প্রথম ডিগ্রি হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কারমেলো অ্যান্থনির পাঁচ থেকে ৯৯ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
তথ্যসূত্র: ফক্স ফোর