ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট কী? নবজাতকদের জন্য নতুন ১ হাজার ডলারের সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া লাখো শিশুর জন্য নতুন একটি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় কর্মসূচি চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য প্রতিটি শিশুর নামে সরকার ১ হাজার ডলার জমা দেবে একটি বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে।

Jun 26, 2026 - 16:26
ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট কী? নবজাতকদের জন্য নতুন ১ হাজার ডলারের সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত
ছবি: হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া লাখো শিশুর জন্য নতুন একটি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় কর্মসূচি চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর নাম ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট। এই কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য প্রতিটি শিশুর নামে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১ হাজার ডলার জমা দেবে। সেই অর্থ সরাসরি হাতে দেওয়া হবে না। বরং একটি বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে রাখা হবে, যেখানে এটি যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারভিত্তিক একটি তহবিলে বিনিয়োগ করা হবে। বছরের পর বছর সেই অর্থের মূল্য বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে শিশু বড় হলে তা ব্যবহার করা যাবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষায়, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো শিশুদের জন্মের শুরু থেকেই আর্থিক ভিত্তি তৈরি করে দেওয়া এবং পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। তবে কর্মসূচিটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। সমর্থকেরা বলছেন, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় একটি সুযোগ। অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, সব পরিবার সমানভাবে এর সুবিধা নিতে পারবে না।

ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট আসলে কী?

ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট হলো শিশুদের জন্য একটি কর-সুবিধাপ্রাপ্ত বিনিয়োগ অ্যাকাউন্ট। এটি অনেকটা অবসরকালীন সঞ্চয় হিসাবের মতো কাজ করবে। তবে এটি শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

এই অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থ নগদ অবস্থায় পড়ে থাকবে না। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ শেয়ারবাজারকে অনুসরণ করা কম খরচের একটি ইনডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগ করা হবে। ফলে বাজার ভালো করলে অ্যাকাউন্টের অর্থও সময়ের সঙ্গে বাড়তে পারে। আবার শেয়ারবাজারে ওঠানামা থাকায় এর মূল্য কমতেও পারে। অর্থাৎ এটি কোনো নির্দিষ্ট সুদের সঞ্চয় হিসাব নয়।

কারা সরকারি ১ হাজার ডলার পাবে?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যেসব শিশু ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হবে, তারা এই কর্মসূচির আওতায় সরকারি ১ হাজার ডলার পাওয়ার যোগ্য হবে।

এর জন্য শিশুর একটি বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবককে নির্ধারিত নিয়মে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। শর্ত পূরণ হলে সরকার শিশুর অ্যাকাউন্টে এককালীন ১ হাজার ডলার জমা দেবে।

তবে ২০২৫ সালের আগে জন্ম নেওয়া বা ২০২৮ সালের পরে জন্ম নেওয়া শিশুরা এই সরকারি অনুদান পাবে না।

অন্য শিশুরাও কি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে?

হ্যাঁ।

১৮ বছরের কম বয়সী অন্য মার্কিন শিশুরাও ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। তবে তারা সরকারি ১ হাজার ডলারের জন্য যোগ্য হবে না। তারা চাইলে নিজেরা বা তাদের পরিবার এই অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা রেখে ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করতে পারবে।

অ্যাকাউন্টে আর কারা অর্থ জমা দিতে পারবে?

শুধু সরকারই নয়, শিশুর বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, আত্মীয়স্বজন কিংবা অন্য যে কেউ নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে এই অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিতে পারবেন।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যক্তিগত অবদান রাখা যাবে।

এ ছাড়া নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, অলাভজনক সংস্থা এবং কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিতে পারবে।

এই অর্থ কোথায় বিনিয়োগ হবে?

ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের অর্থ কোনো ব্যক্তিগত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা হবে না।

বরং এটি এমন একটি কম খরচের ইনডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগ করা হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ শেয়ারবাজারের সামগ্রিক পারফরম্যান্স অনুসরণ করে। ফলে একটি কোম্পানির ওপর নির্ভর না করে শত শত বড় প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময়ের জন্য এই ধরনের বিনিয়োগ সাধারণত ভালো ফল দিতে পারে। তবে শেয়ারবাজারে ঝুঁকি সবসময়ই থাকে এবং লাভের কোনো নিশ্চয়তা নেই।

কখন এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে?

এই অ্যাকাউন্টের উদ্দেশ্য দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়। তাই শিশু ছোট থাকাকালে সাধারণভাবে এই অর্থ তুলে ব্যবহার করা যাবে না।

১৮ বছর পূর্ণ হলে অ্যাকাউন্টটি নতুন ধাপে যাবে এবং তখন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। সরকার বলছে, ভবিষ্যতে শিক্ষা, প্রথম বাড়ি কেনা বা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার মতো কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অর্থ তোলার ক্ষেত্রে কর ও অন্যান্য নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

কীভাবে আবেদন করতে হবে?

অভিভাবকদের আইআরএসের নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে ইমেইলের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করার নির্দেশনা পাঠানো হবে।

সরকার একটি মোবাইল অ্যাপও চালু করেছে। এর মাধ্যমে অভিভাবকেরা অ্যাকাউন্টের বর্তমান মূল্য, বিনিয়োগের অবস্থা এবং অতিরিক্ত অর্থ জমার তথ্য দেখতে পারবেন।

বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সমর্থন দিয়েছে

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, কয়েকটি বড় মার্কিন কোম্পানি এবং কিছু ব্যবসায়ী এই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মাইকেল ডেল এবং বিনিয়োগকারী রে ডালিওর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশাসনের আশা, ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠান কর্মীদের সন্তানদের জন্য এই ধরনের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেবে।

কেন এই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে?

সমর্থকদের মতে, একটি শিশু জন্মের পর থেকেই যদি তার নামে বিনিয়োগ শুরু হয়, তাহলে ১৮ বছর বা তারও বেশি সময় পরে সেই অর্থ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই পরিবারগুলো সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হবে।

অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, যেসব পরিবারের নিয়মিত অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তারা তুলনামূলক কম সুবিধা পাবে। এছাড়া কর্মসূচির রাজনৈতিক নামকরণ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অনেকের মতে, সরকারি কর্মসূচির নাম কোনো বর্তমান বা সাবেক প্রেসিডেন্টের নামে হওয়া উচিত নয়।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য সরকারিভাবে বিনিয়োগভিত্তিক সঞ্চয় কর্মসূচি খুবই বিরল। ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট সেই দিক থেকে নতুন একটি উদ্যোগ। এটি শুধু ১ হাজার ডলার দেওয়ার কর্মসূচি নয়। বরং জন্মের পর থেকেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের সম্পদ গড়ে তোলার একটি পরিকল্পনা।

তবে এই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে কত পরিবার এতে অংশ নেয়, কতজন নিয়মিত অর্থ জমা রাখে এবং আগামী বছরগুলোতে শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্স কেমন থাকে তার ওপর।

সূত্র: মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ