বাংলাদেশে শিশু অধিকার চরম হুমকিতে, ২০ মাসে ৬৪৩ শিশু হত্যার অভিযোগ
বাংলাদেশে শিশু অধিকার ও মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী রমিসা আখতারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা এবং আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে পুনরাবৃত্তিমূলক যৌন নির্যাতনের ঘটনা দেশের সামাজিক কাঠামো ও বিচারব্যবস্থার গভীর দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২০ মাসে ধর্ষণ ও নির্যাতনের পর ৬৪৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
বাংলাদেশে শিশু অধিকার ও মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী রমিসা আখতারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা এবং আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে পুনরাবৃত্তিমূলক যৌন নির্যাতনের ঘটনা দেশের সামাজিক কাঠামো ও বিচারব্যবস্থার গভীর দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২০ মাসে ধর্ষণ ও নির্যাতনের পর ৬৪৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটসের (আইএসএইচআর) বাংলাদেশ প্রতিনিধি হাসান হামিদের একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রমিসা আখতারের বিচ্ছিন্ন দেহ পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেশী সোহেল রানা শিশুটিকে তার ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণের পর অপরাধ গোপন করতে তাকে হত্যা করে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, রমিসার মা প্রতিবেশীর দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখে সন্দেহ করেন। দরজা খুলতে অস্বীকার করায় পুলিশ ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে বাথরুমের বালতিতে রমিসার মাথা এবং মেঝেতে দেহ খুঁজে পায়। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশু হত্যার প্রায় ৬৬ শতাংশ এবং যৌন নির্যাতনের প্রায় ৫৯ শতাংশ ঘটনা পরিচিত পরিবেশে ঘটে থাকে।
আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে শিশু যৌন নির্যাতনের বিষয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবাসিক মাদ্রাসায় যৌন বিকৃতি ও নির্যাতনের অস্তিত্ব অস্বীকার করা সম্ভব নয়। তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ অনুযায়ী ধর্ষণের ফলে মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
মেহেরপুরের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মাত্র ২৯ কর্মদিবসে একটি শিশু যৌন নির্যাতন মামলার রায় দিয়ে অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে, যা দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ মামলায় বিচারিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে ন্যায়বিচার বিলম্বিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: আইএসএইচআর