স্মার্টফোন যেভাবে আপনার শরীর বদলে দিচ্ছে, অধিকাংশ মানুষ জানেনই না
দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ব্যবহারে মানুষের শরীরে যেসব পরিবর্তন হচ্ছে তা অধিকাংশ মানুষ টের পাচ্ছেন না বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন। চিকিৎসকরা এখন 'ফোন বডি' শব্দটি ব্যবহার করছেন, যা বছরের পর বছর ঝুঁকে, চোখ কুঁচকে ও স্ক্রল করে ফোন ব্যবহারের ফলে শরীরে আসা পরিবর্তনকে বোঝায়।
দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ব্যবহারে মানুষের শরীরে যেসব পরিবর্তন হচ্ছে তা অধিকাংশ মানুষ টের পাচ্ছেন না বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন। চিকিৎসকরা এখন 'ফোন বডি' শব্দটি ব্যবহার করছেন, যা বছরের পর বছর ঝুঁকে, চোখ কুঁচকে ও স্ক্রল করে ফোন ব্যবহারের ফলে শরীরে আসা পরিবর্তনকে বোঝায়।
ফাস্ট কোম্পানির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গড়ে মার্কিন নাগরিকরা দিনে প্রায় সাত ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। নিউইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান হাসপাতালের মেরুদণ্ড বিশেষজ্ঞ ড. কে. ড্যানিয়েল রিউ জানান, ফোনে ঝুঁকে তাকানোর সময় ঘাড়ের পেছনের পেশি ক্রমাগত চাপ সামলায়, যা সার্ভিকাল ডিস্কে অকাল কোষ মৃত্যু ও ক্ষয় ত্বরান্বিত করে।
ড. রিউ বলেন, তিনি এখন ২০ বছর বয়সী রোগী দেখছেন, যাদের আগে তাঁর চিকিৎসায় আসার কথা ছিল না। তিনি পরামর্শ দেন, সোজা বসে ফোন না দেখে ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি হেলান দিয়ে কোমরে সাপোর্ট রেখে বসতে। তিনি সতর্ক করেন, 'একবার পর্যাপ্ত কোষ মরে গেলে আর ফেরত আসার উপায় নেই।'
দৃষ্টি বিজ্ঞানী ডোনাল্ড মুটি জানান, শিশুদের মধ্যে ক্ষীণদৃষ্টির হার দ্রুত বাড়ছে। তবে এর প্রধান কারণ স্ক্রিন নয়, বরং বাইরে কম সময় কাটানো। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা বাইরে থাকলে এবং ২ হাজার লাক্সের বেশি উজ্জ্বলতায় কমপক্ষে ১৫ মিনিট থাকলে সর্বোচ্চ সুরক্ষা পাওয়া যায়।
মেডিকেল ইউনিভার্সিটি লাউজিৎসের অধ্যাপক ইয়োহানেস বেলার জানান, হাতের মুঠির শক্তি কমে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে তাঁর গবেষণায় এই পতন শুধু স্মার্টফোন নয়, বরং বৃহত্তর জীবনযাপন পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রমাণিত হয়েছে।
সূত্র: ফাস্ট কোম্পানি