স্পেনের সেউতায় একদিনে ৬০ হাজার অভিবাসীর প্রবেশ, নিহত অন্তত ৩৪
মরক্কো থেকে স্পেনের আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে এবং সীমান্ত পার হতে গিয়ে অন্তত ৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই গণপ্রবেশে সেউতার জনসংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে, যেখানে এই ছিটমহলে আগে থেকেই প্রায় ৮৩ হাজার মানুষ বসবাস করত। পরিস্থিতিকে চরম মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হেসুস ভিভাস।
মরক্কো থেকে স্পেনের আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে এবং সীমান্ত পার হতে গিয়ে অন্তত ৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই গণপ্রবেশে সেউতার জনসংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে, যেখানে এই ছিটমহলে আগে থেকেই প্রায় ৮৩ হাজার মানুষ বসবাস করত। পরিস্থিতিকে চরম মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হেসুস ভিভাস।
স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট এ মাসের শুরুতে এক রায়ে জানায়, সমুদ্রপথে সেউতা বা মেলিইয়ায় আসতে গিয়ে আটক অভিবাসীদের সরাসরি মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। পাচারকারী চক্রগুলো এই রায়কে নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করে হাজার হাজার মানুষকে সীমান্ত পাড়ি দিতে উৎসাহিত করেছে বলে জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি শুক্রবার সেউতায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
তরুণ ও কিশোর বয়সী অভিবাসীরা স্থলপথে সীমান্তের বেড়া টপকে এবং সমুদ্রপথে তারাহাল সৈকতের ব্রেকওয়াটার দিয়ে সেউতায় প্রবেশ করেছে। ডুবে যাওয়া ও পদদলিত হয়ে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়, পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪-এ দাঁড়ায়। হাজার হাজার অভিবাসী পার্ক ও ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা ফুরিয়ে গেছে।
স্পেন সরকার সীমান্তে ৬০ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে, তবে সিভিল গার্ডের মাত্র ৫৫ জন এজেন্ট দিয়ে পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসী পরে মরক্কোতে ফিরে গেছে। ফ্রান্স নিজের সীমান্তে দ্রুত হস্তক্ষেপ বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং ইতালি স্পেনকে শেনজেন অঞ্চল থেকে বরখাস্তের দাবি তুলেছে।
সেউতা ও মেলিইয়া আফ্রিকা মহাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থল সীমান্ত, যা অভিবাসীদের কাছে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে বিবেচিত। ২০২১ সালের মে মাসেও একই ধরনের ঘটনায় প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছিল, তবে এবারের ঘটনা সেই সংকটকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউরোনিউজ ও আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে।