প্রাণের সম্ভাবনার খোঁজে বড় সাফল্য, বাসযোগ্য গ্রহে মিলল বায়ুমণ্ডল

পৃথিবী থেকে ৪৮ আলোকবর্ষ দূরে বাসযোগ্য অঞ্চলে অবস্থিত পাথুরে গ্রহ এলএইচএস ১১৪০ বি-তে প্রথমবারের মতো বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কলিন চেরুবিমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল জুলাই মাসে বিখ্যাত সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গ্রহটির বায়ুমণ্ডল থেকে হিলিয়াম গ্যাস মহাকাশে বেরিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়ে এই আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে।

Jul 31, 2026 - 23:43
প্রাণের সম্ভাবনার খোঁজে বড় সাফল্য, বাসযোগ্য গ্রহে মিলল বায়ুমণ্ডল
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

পৃথিবী থেকে ৪৮ আলোকবর্ষ দূরে বাসযোগ্য অঞ্চলে অবস্থিত পাথুরে গ্রহ এলএইচএস ১১৪০ বি-তে প্রথমবারের মতো বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কলিন চেরুবিমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল জুলাই মাসে বিখ্যাত সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গ্রহটির বায়ুমণ্ডল থেকে হিলিয়াম গ্যাস মহাকাশে বেরিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়ে এই আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে।

চিলির লাস ক্যাম্পানাস মানমন্দিরে ম্যাজেলান ক্লে টেলিস্কোপের ওয়ার্ম ইনফ্রারেড একেলি স্পেকট্রোগ্রাফ ব্যবহার করে এই পর্যবেক্ষণ করা হয়। ২০২৪ সালে গ্রহটির ট্রানজিটের সময় হিলিয়ামের উপস্থিতি ধরা পড়লেও ২০২৫ সালের পর্যবেক্ষণে তা দেখা যায়নি, যা বায়ুমণ্ডলীয় ক্ষরণ প্রক্রিয়ার পরিবর্তনশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

এলএইচএস ১১৪০ বি পৃথিবীর চেয়ে ১ দশমিক ৭৩ গুণ বড় এবং ৫ দশমিক ৬ গুণ ভারী। গ্রহটির ভারসাম্য তাপমাত্রা প্রায় ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এটি একটি লাল বামন নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলে প্রদক্ষিণ করছে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, গ্রহটির বায়ুমণ্ডল তিন শ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক কলিন চেরুবিম বলেন, প্রাণের অস্তিত্বের জন্য বায়ুমণ্ডল অপরিহার্য এবং বাসযোগ্য অঞ্চলে পাথুরে গ্রহে এই প্রথম এর প্রমাণ পাওয়া গেল। সহ-লেখক রবিন ওয়ার্ডসওয়ার্থ জানান, বিশ বছর আগে পৃথিবীর মতো গ্রহের অস্তিত্ব নিয়েই সন্দেহ ছিল, আর এখন সেগুলোর বায়ুমণ্ডল শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

এই আবিষ্কার লাল বামন নক্ষত্রের চারপাশে পাথুরে গ্রহগুলো বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে কি না, সেই দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। জেমস ওয়েব ও হাবল মহাকাশ টেলিস্কোপের রকি ওয়ার্ল্ডস প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলের বিস্তারিত রাসায়নিক গঠন জানতে আরও পর্যবেক্ষণ চালানো হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। আর্থস্কাই এই খবর জানিয়েছে।