অক্টোবরে জ্বালানি আমদানির ঋণপত্র খুলতে পারবে না বিপিসি, ১৫-২০ হাজার কোটি টাকার সংকট

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আগামী অক্টোবরে জ্বালানি আমদানির ঋণপত্র খুলতে পারবে না বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থার আর্থিক সংকট মারাত্মক আকার নিয়েছে।

Sep 17, 2026 - 19:07
অক্টোবরে জ্বালানি আমদানির ঋণপত্র খুলতে পারবে না বিপিসি, ১৫-২০ হাজার কোটি টাকার সংকট
উইকিমিডিয়া কমন্স

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আগামী অক্টোবরে জ্বালানি আমদানির ঋণপত্র খুলতে পারবে না বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থার আর্থিক সংকট মারাত্মক আকার নিয়েছে।

বিপিসির গত ৬ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী সংস্থাটির কার্যকরী মূলধন রয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা, যা শুধু সেপ্টেম্বরের আমদানি পেমেন্ট মেটাতে পারবে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম গত ৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়ে দুই মাসের আমদানি ব্যয় নিশ্চিত রাখতে আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থায়ন চেয়েছেন।

মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে ঋণপত্র নিষ্পত্তিতে বিপিসির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। মার্চের পর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশীয় জ্বালানির দাম সে অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়নি। সেপ্টেম্বরের জন্য বিপিসি ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১৮৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিল, কিন্তু সরকার তা ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রেখেছে।

আর্থিক চাপ কমাতে বিপিসি ইস্টার্ন রিফাইনারির ইউনিট-২ এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের অ্যাকাউন্ট থেকে ইতোমধ্যে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। এতে প্রকল্প অ্যাকাউন্টে অবশিষ্ট আছে মাত্র ১ হাজার ৬৭৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বরে জমি অধিগ্রহণ বাবদ আরও ৫২৪ কোটি এবং ডিসেম্বরের মধ্যে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং প্রকল্পের ঋণ পরিশোধে ৬৯০ কোটি টাকা প্রয়োজন।

বিপিসি মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ভর্তুকির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিল, কিন্তু তা এখনো ছাড় হয়নি। ২০২৫ সালে স্বয়ংক্রিয় জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু হলেও মার্চ থেকে এটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না, যা সংকট আরও গভীর করছে।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার