ইউএসএমসিএ সংকটে টেক্সাসের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ধাক্কার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে
ট্রাম্প প্রশাসন ইউএসএমসিএ নবায়ন না করায় এবং কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণায় টেক্সাসের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় প্রস্তুত হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইউএসএমসিএ (ইউনাইটেড স্টেটস-মেক্সিকো-কানাডা অ্যাগ্রিমেন্ট) নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত এবং কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণায় টেক্সাসের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় প্রস্তুত হচ্ছে। মেক্সিকো ও কানাডা যথাক্রমে টেক্সাসের এক ও দুই নম্বর বাণিজ্য অংশীদার এবং ২০২৪ সালে এই দুই দেশের সঙ্গে টেক্সাসের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার, যা রাজ্যের মোট অর্থনীতির ১২ শতাংশ।
উত্তর টেক্সাসের ওলনি শহরে অবস্থিত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ার ট্র্যাক্টর এই সংকটের একটি বড় উদাহরণ। কোম্পানিটি কানাডার প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি থেকে ইঞ্জিন আমদানি করে এবং ইউএসএমসিএ বাতিল হলে সেই ইঞ্জিনে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসবে। কোম্পানির প্রেসিডেন্ট জিম হার্শ জানান, এতে তাদের বিমানের দাম ১২ শতাংশ বাড়াতে হবে এবং অর্ডার ৫০ শতাংশ বা তার বেশি কমে যেতে পারে। উত্তর টেক্সাসে তাদের ৪০০-র বেশি কর্মীর চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে।
রাইস ইউনিভার্সিটির বেকার ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ টনি পায়ান বলেন, ট্রাম্প সম্ভবত চুক্তি বাতিল করতে চান না, বরং সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করে আলোচনায় সুবিধা নিতে চান। তবে এই অনিশ্চয়তায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে। গত দেড় বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানুফ্যাকচারিং পুনরুজ্জীবন ঘটেনি, বরং কারখানার চাকরি কমেছে।
এল পাসো অঞ্চলের বর্ডারপ্লেক্স এলাকায় এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। বর্ডার ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জেরি পাচেকো জানান, গত এক বছরে একাধিক প্রকল্প স্থগিত হয়েছে। তাইওয়ানের একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক টেসলাকে সরবরাহের জন্য ৩০ একর জমি কিনলেও ইউএসএমসিএ অনিশ্চয়তার কারণে এখনো নির্মাণকাজ শুরু করেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেক্সাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গাড়ি ও যন্ত্রাংশ শিল্প, কারণ সীমান্তের দুই পাশে এই খাতের উৎপাদন প্রক্রিয়া গভীরভাবে সংযুক্ত। টয়োটা সম্প্রতি তিহুয়ানা থেকে সান আন্তোনিওতে ২ হাজার চাকরি স্থানান্তর করলেও বেশিরভাগ কোম্পানি এখনো অপেক্ষা করছে। এই বাণিজ্য অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে টেক্সাসের হাজার হাজার কর্মীর জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।