যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে বাড়ছে আইসের অভিযান, আতঙ্কে অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইসের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশজুড়ে একের পর এক বিমানবন্দরে যাত্রীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবং বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অনেক মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Jul 29, 2026 - 00:16
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে বাড়ছে আইসের অভিযান, আতঙ্কে অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইসের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশজুড়ে একের পর এক বিমানবন্দরে যাত্রীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবং বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অনেক মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, আগের তুলনায় এখন আইস বিমানবন্দরকে গ্রেপ্তারের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে। কারণ, যাত্রীদের ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য আগে থেকেই ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কাছে থাকে। ফলে কোনো ব্যক্তি কখন, কোথায় এবং কোন ফ্লাইটে ভ্রমণ করবেন, তা জানা সহজ হয়। সাবেক ভারপ্রাপ্ত আইস পরিচালক জন স্যান্ডওয়েগ বলেন, নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ হওয়ায় বিমানবন্দর থেকে কাউকে আটক করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য তুলনামূলক সহজ।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার একটি বিমানবন্দর থেকে আশ্রয়প্রার্থী এক নারীকে টেক্সাসে বাবার শেষকৃত্যে যাওয়ার পথে আটক করা হয়। শিকাগোর একটি বিমানবন্দর থেকেও আরেক অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন বলে তাঁর আইনজীবী দাবি করেছেন।

ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কর্মরত অবস্থায় সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকেও আটক করে আইস। লাস ভেগাসে এক ব্যক্তিকে আটক করতে গিয়ে জনতার প্রতিবাদের মুখে অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলেও পরদিন তাঁকে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জেট ব্রিজ থেকেও এক নারীকে আটক করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের শনাক্ত ও বহিষ্কার করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অধিকার হারিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সংস্থাটি বিমানবন্দরে অভিযান বেড়েছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। প্রশাসনের লক্ষ্য প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার অভিবাসন গ্রেপ্তার সম্পন্ন করা।

অন্যদিকে অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই অভিযান শুধু অনথিভুক্ত অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। অনেক ক্ষেত্রে আশ্রয় আবেদনকারী, ভিসার মেয়াদসংক্রান্ত জটিলতায় থাকা ব্যক্তি কিংবা অন্য আইনি প্রক্রিয়াধীন অভিবাসীরাও ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। তাঁদের মতে, বিমানবন্দরে ভ্রমণ এখন অনেক অভিবাসীর জন্য নতুন ধরনের আইনি ঝুঁকি তৈরি করেছে।

সূত্র: সিএনএন