আমেরিকায় জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতা: সংসার খরচ মেটাতে পারছে না অর্ধেক পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক পরিবার তাদের মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে পর্যাপ্ত আয় করছে না বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণাটি বলছে, জীবনযাত্রার খরচ বছরে মাত্র ১ হাজার ডলার বাড়লেও আরও ৩০ লাখ পরিবার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে অক্ষম হয়ে পড়তে পারে।

Jun 4, 2026 - 22:17
আমেরিকায় জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতা: সংসার খরচ মেটাতে পারছে না অর্ধেক পরিবার
ছবি: ওহাইও ক্যাপিটাল জার্নালের সৌজন্যে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক পরিবার তাদের মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে পর্যাপ্ত আয় করছে না বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণাটি বলছে, জীবনযাত্রার খরচ বছরে মাত্র হাজার ডলার বাড়লেও আরও ৩০ লাখ পরিবার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে অক্ষম হয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন সম্প্রতি প্রকাশিতস্টেটস অব অ্যাফোর্ডেবিলিটিশীর্ষক প্রতিবেদনে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্য বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চিত্র বিশ্লেষণ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ দশমিক শতাংশ পরিবার মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর মতো আয় করতে পারেনি। গবেষণায় বাসস্থান, খাদ্য, শিশু পরিচর্যা, পরিবহন, ইউটিলিটি বিলসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ব্যয়কে জীবনধারণের ন্যূনতম খরচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সমস্যাটি কেবল নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল বা রাজনৈতিকভাবে ডেমোক্র্যাট কিংবা রিপাবলিকান-প্রধান অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তবে রাজ্যভেদে পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

কলোরাডো, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং ওয়াশিংটন, ডিসি-তে ৬০ শতাংশের বেশি পরিবার জানিয়েছে তারা জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সক্ষম। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া, কেন্টাকি, লুইজিয়ানা, নিউইয়র্ক এবং ওরেগন- অর্ধেকেরও কম পরিবার একই দাবি করেছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে হাওয়াই, যেখানে মাত্র ৩৯ শতাংশ পরিবার প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে সক্ষম বলে জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটি ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা যায়, গত এক দশকের বেশিরভাগ সময়েই ৪০ শতাংশের বেশি পরিবার আর্থিক চাপে ছিল। ব্যতিক্রম ছিল ২০২১ ২০২২ সাল, যখন কোভিড-১৯ মহামারির পর পুনরুদ্ধার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফেডারেল সরকার বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা সুবিধা চালু করেছিল।

তবে এসব সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আবার অবনতি হতে শুরু করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করতে সক্ষম পরিবারের হার ১০ শতাংশ পয়েন্ট কমে যায়, যা আগের কয়েক বছরের অর্জিত অগ্রগতির বড় অংশই মুছে দিয়েছে।

গবেষণায় জাতিগত বৈষম্যের বিষয়টিও উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে বর্ণগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৫৫ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে পারছে না। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে কৃষ্ণাঙ্গ এবং লাতিনো বা হিস্পানিক পরিবারের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে সক্ষমতার হার অন্যান্য গোষ্ঠীর তুলনায় সবচেয়ে কম ছিল।

তবে কিছু অঙ্গরাজ্যে সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর অবস্থার উন্নতি তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে জর্জিয়া-তে বর্ণগত সংখ্যালঘু পরিবারের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সক্ষমতার হার এক দশকে শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে রাজ্যটির সামগ্রিক উন্নতি হয়েছে শতাংশ পয়েন্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়ের বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো গেলে সংকট নিরসন সম্ভব। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ১০ ডলার বাড়ানো হলে কোটি ৭৯ লাখ মার্কিন পরিবার প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে সক্ষম হবে। একইভাবে মাসিক ব্যয় ৫০০ ডলার কমলে আরও এক কোটি পরিবার জীবনযাত্রার মৌলিক ব্যয় নির্বাহ করতে পারবে।

তবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি দশমিক ২৫ ডলার, যা ২০০৯ সালের পর আর বাড়েনি। ফলে আয় বৃদ্ধি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা রাজনৈতিক অর্থনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।

তথ্যসূত্র: ইউএস নিউজ