বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনায় ‘মেক্সিকান ওয়েভ’

মেক্সিকোয় বিশ্বকাপ আর মেক্সিকান ওয়েভ আলোচনায় থাকবে না তা কি হয়! বিশ্বকাপ শুরুর আগে ঠিকই মেক্সিকান ওয়েভকে আলোচনায় নিয়ে এসেছেন মেক্সিকানরা।

Jun 7, 2026 - 19:56
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনায় ‘মেক্সিকান ওয়েভ’
মেক্সিকান ওয়েভের বিশ্ব রেকর্ড গড়তে শনিবার মেক্সিকো সিটিতে অংশ নেন হাজারও মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

মেক্সিকোয় বিশ্বকাপ আর মেক্সিকান ওয়েভ আলোচনায় থাকবে না তা কি হয়! বিশ্বকাপ শুরুর আগে ঠিকই মেক্সিকান ওয়েভকে আলোচনায় নিয়ে এসেছেন মেক্সিকানরা।

কীভাবে? শনিবার রাজধানী মেক্সিকো সিটির প্রধান সড়কে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড়মেক্সিকান ওয়েভবা মানবঢেউ তৈরির চেষ্টা করেছেন।

ফুটবল মাঠে দর্শকদের তৈরি করা এই মানবঢেউয়ের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের সময়। সেবার মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত আসরে স্থানীয় সমর্থকদের উদযাপনই পরবর্তীতে বিশ্বের বড় বড় স্টেডিয়ামগুলোতে পরিচিত দৃশ্যে পরিণত হয়।

শনিবার সকাল থেকেই জাতীয় দলের জার্সি, হাতে পতাকা এবং সংগীতের তালে নেচে-গেয়ে উৎসবে যোগ দেন হাজারো মানুষ। প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত রাজধানীর বিখ্যাত পাসেও দে লা রিফর্মা সড়ক পরিণত হয় উৎসবমুখর জনসমুদ্রে।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন স্যালি আভিলেস। তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই রেকর্ড গড়ব। কারণ আমরা সবসময়ই এটা করি। প্রতিটি ম্যাচে, প্রতিটি স্টেডিয়ামে।

অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা অনেক নারীও অংশ নেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউকাত্রিনাসাজে উপস্থিত হন, যা মেক্সিকোর বিখ্যাতডে অব দ্য ডেডউৎসবের প্রতীকী চরিত্র হিসেবে পরিচিত।

আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করে স্থানীয় জনপ্রিয় দললা সোনোরা সান্তানেরা একই সঙ্গে একজন উপস্থাপক বিশাল জনতাকে নির্দেশনা দেন কীভাবে সমন্বিতভাবে মানবঢেউ তৈরি করতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী সামনের সারির অংশগ্রহণকারীরা হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে হঠাৎ নিচু হয়ে যান। এরপর একে একে পেছনের সারিগুলো একই ভঙ্গি অনুসরণ করলে পুরো জনসমুদ্র ঢেউয়ের মতো দুলতে থাকে।

৫৫ বছর বয়সী গ্লোরিয়া ফ্রাগোসো বলেন, “এত সুন্দর একটি আয়োজনের অংশ হওয়ার সুযোগ আমি হাতছাড়া করতে পারতাম না। বিশ্বের সামনে দেখাতে চাই, মেক্সিকো আসলে কেমনএখানে আছে উৎসব, ভালোবাসা, ঐক্য এবং শান্তি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে আগত সমর্থকদের স্বাগত জানাতে দেশটি পুরোপুরি প্রস্তুত।

তবে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির পাশাপাশি দেশটি দীর্ঘদিন ধরে মাদকচক্র গ্যাং সহিংসতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। কারণে বিশ্বকাপ উপলক্ষে মেক্সিকো সিটি, মন্তেরে এবং গুয়াদালাহারায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির সাংস্কৃতিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবঢেউয়ের রেকর্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ। তাদের যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে, সত্যিই নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়তে পেরেছে কি না মেক্সিকো।

ডালাস বার্তা ডেস্ক