ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার খবর, গবেষণায় ওষুধ ও পরীক্ষার অগ্রগতি
ক্যানসার চিকিৎসা ও শনাক্তকরণে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণা। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় অনুষ্ঠিত আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (এএসসিও) বার্ষিক সম্মেলনে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের নতুন ওষুধ, ওজন কমানোর ওষুধের সম্ভাব্য প্রভাব, লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্তকরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন গবেষকেরা।
ক্যানসার চিকিৎসা ও শনাক্তকরণে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণা। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় অনুষ্ঠিত আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (এএসসিও) বার্ষিক সম্মেলনে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের নতুন ওষুধ, ওজন কমানোর ওষুধের সম্ভাব্য প্রভাব, লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্তকরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন গবেষকেরা।
মঙ্গলবার (২ জুন) শেষ হওয়া সম্মেলনে উপস্থাপিত সাত হাজারের বেশি গবেষণার মধ্যে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার নিয়ে একটি গবেষণা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ক্যানসারগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই রোগের ক্ষেত্রে নতুন একটি ওষুধকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন বায়োটেক প্রতিষ্ঠান রেভল্যুশন মেডিসিনসের তৈরি ‘ডারাক্সনরাসিব’ নামের ওষুধ নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের রোগীদের ক্ষেত্রে এটি প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় বেশি কার্যকর। গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের অর্ধেকের বেশি ১৩ মাসেরও বেশি সময় বেঁচে ছিলেন, যা কেমোথেরাপি গ্রহণকারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। অনকোলজিস্ট মন্টি প্যাল বলেন, উন্নত পর্যায়ের অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার চিকিৎসায় এই ফলাফল বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্মেলনে ওজেম্পিক ও ওয়েগোভির মতো জিএলপি-১ অ্যাগোনিস্ট শ্রেণির ওষুধ নিয়েও নতুন তথ্য উপস্থাপন করা হয়। মূলত ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য তৈরি এসব ওষুধ বর্তমানে ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত ডায়াবেটিস চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তুলনায় জিএলপি-১ অ্যাগোনিস্ট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ফুসফুস, স্তন, কোলোরেক্টাল ও লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার ৩৮ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম ছিল। তবে গবেষণার প্রধান লেখক মার্ক অরল্যান্ড সতর্ক করে বলেছেন, এই ফলাফল নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।
স্তন ক্যানসার চিকিৎসা নিয়েও নতুন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে সম্মেলনে। গবেষণায় দেখা গেছে, এক বা দুটি লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়া স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে অ্যাক্সিলারি লিম্ফ নোড ডিসেকশন নামে পরিচিত অস্ত্রোপচার না করলেও অনেক রোগীর জন্য তা নিরাপদ হতে পারে।
এএসসিওর ভাইস প্রেসিডেন্ট জুলি গ্রালো বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লিম্ফ নোড অপসারণ করা হচ্ছে, যার ফলে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
প্রোস্টেট ক্যানসার নিয়ে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণাতেও আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। জিনগত মিউটেশন থাকা রোগীদের ওপর এনজালুটামাইড ও টালাজোপারিব ওষুধ একসঙ্গে প্রয়োগ করে দেখা গেছে, টালাজোপারিব যুক্ত করার ফলে টিউমারের অগ্রগতি বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
গবেষণার সমন্বয়কারী অধ্যাপক করিম ফিজাজি এই ফলাফলকে ‘ব্যতিক্রমধর্মী’ এবং ‘বড় অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে লিকুইড বায়োপসি বা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নিয়েও বেশ কয়েকটি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘গ্যালেরি’ নামের একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই ৫০ ধরনের ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিচালিত গবেষণায় কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলেও ১২ ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রে দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়ার হার কমেছে—এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গবেষকদের মতে, ক্যানসার শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় এসব নতুন ওষুধ এবং প্রযুক্তি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এগুলোর কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা প্রয়োজন।
ডালাস বার্তা ডেস্ক