হরমুজ প্রণালি খুললেই তেলের জোয়ার, দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে বৈশ্বিক সরবরাহ

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিলে বৈশ্বিক তেলবাজারে দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি ঘটতে পারে বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা, কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেল উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে।

Jun 8, 2026 - 21:02
হরমুজ প্রণালি খুললেই তেলের জোয়ার, দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে বৈশ্বিক সরবরাহ
হরমুজ পুনরায় চালু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ৫০ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা ফিরে আসতে পারে। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিলে বৈশ্বিক তেলবাজারে দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি ঘটতে পারে বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা, কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেল উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে।

বর্তমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার বাহরাইন তাদের তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে এসব দেশের সম্মিলিত উৎপাদন ছিল দৈনিক প্রায় কোটি ২০ লাখ ব্যারেল। তা কমে বর্তমানে প্রায় কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতার মাধ্যমে হরমুজে ট্যাংকার চলাচল পুনরায় শুরু হলে প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে উপসাগরে জাহাজ প্রবেশ তেল পরিবহন ব্যবস্থা সচল করা। তবে ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা দেখা যাবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সুপারট্যাংকার মালিক প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টলাইন পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি এলাকায় অন্তত ৫৫টি বড় তেলবাহী জাহাজ খালি অবস্থায় অপেক্ষা করছে। এসব জাহাজে প্রায় ১১ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, সংরক্ষণাগার রপ্তানি অবকাঠামোর বেশিরভাগই যুদ্ধের মধ্যে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি। যেখানে ক্ষতি হয়েছে, সেগুলোরও অধিকাংশ মেরামত করা হয়েছে যুদ্ধবিরতির সময়।

এবারের পরিস্থিতি ১৯৯১ সালের কুয়েত যুদ্ধ কিংবা ২০০২-০৩ সালে ভেনেজুয়েলার তেল খাতের সংকটের মতো নয়। উপসাগরীয় দেশগুলো পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন কমিয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই কিছু কূপ চালু রেখেছে, যাতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে প্রযুক্তিগত জটিলতা তৈরি না হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অঞ্চলটির তেলশিল্প পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি; বরং সীমিত উৎপাদন ধরে রেখে অবকাঠামো সচল রাখা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সমাধান হলে উৎপাদন পুনরুদ্ধার তুলনামূলক দ্রুত সম্ভব হবে।

তাদের ধারণা, হরমুজ পুনরায় চালু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ৫০ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা ফিরে আসতে পারে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা ৭৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে এবং কয়েক মাসের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।

এদিকে যুদ্ধ শুরুর আগেও উপসাগরীয় অনেক দেশ তাদের সর্বোচ্চ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করেনি। ওপেক প্লাসের কোটা ব্যবস্থার কারণে সৌদি আরবের মতো দেশগুলো সক্ষমতার তুলনায় কম তেল উত্তোলন করছিল। ফলে বাজারের ভারসাম্য ফেরাতে যুদ্ধপূর্ব উৎপাদন পর্যায়ে ফিরে যাওয়াও সব ক্ষেত্রে প্রয়োজন নাও হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উচ্চমূল্যের কারণে বৈশ্বিক তেলের চাহিদা কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার মতো দেশগুলোতে উৎপাদনও বেড়েছে। ফলে হরমুজ পুনরায় চালু হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সবকিছুই নির্ভর করছে রাজনৈতিক সমাধানের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মধ্যে টেকসই সমঝোতা ছাড়া হরমুজে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল পুনঃস্থাপন সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

তথ্যসূত্র: ব্লুর্মবার্গ