ফুটবলে বাংলাদেশের ইউরোপ জয়

নতুন কোচ টমাস ডুলির ছকে আক্রমণাত্মক ফুটবল আর মাঠে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গগনবিদারী চিৎকার—সব মিলিয়ে সান মারিনোর সেরাফাল্লে স্টেডিয়ামে রচিত হলো বাংলাদেশের ফুটবলের নতুন এক ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের মহানায়ক তপু বর্মণ। তাঁর জোড়া গোলেই শুক্রবার (৫ জুন) ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ সান মারিনোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

Jun 6, 2026 - 01:02
ফুটবলে বাংলাদেশের ইউরোপ জয়
হেডে গোল করতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের তপু বর্মণকে। তাঁর জোড়া গোলেই ২-১ ব্যবধানে সান মারিনোকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ছবি: বাফুফে

নতুন কোচ টমাস ডুলির ছকে আক্রমণাত্মক ফুটবল আর মাঠে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গগনবিদারী চিৎকারসব মিলিয়ে সান মারিনোর সেরাফাল্লে স্টেডিয়ামে রচিত হলো বাংলাদেশের ফুটবলের নতুন এক ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের মহানায়ক তপু বর্মণ। তাঁর জোড়া গোলেই শুক্রবার ( জুন) ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ সান মারিনোকে - ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

ইউরোপের মাটিতে কোনো ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এটাই প্রথম জয় হামজা চৌধুরীদের। নতুন কোচের অধীনে শুরুটা এরচেয়ে ভালো আর কী হতে পারত!

্যাঙ্কিংয়ের তলানির দল সান মারিনো (২১১) তাদের চেয়ে ৩০ ধাপ এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ (১৮১) তবে ইউরোপের দল বলে কথা। এমন ঐতিহাসিক ম্যাচে শুক্রবার ডুলি তাঁর -- ছকে শুরুর একাদশ সাজিয়ে চমক দেখিয়েছিলেন। শমিত সোমকে বাইরে রেখে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেন সাবেক কোচ হাভিয়ের কাবরেরার আমলে ব্রাত্য থাকা অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার হাতে। জামালের দুই পাশে দারুণ বোঝাপড়া গড়ে তোলেন হামজা চৌধুরী সোহেল রানা সিনিয়র। রক্ষণে তপু বর্মণ, তারিক কাজী, ইসা ফয়সাল সাদ উদ্দিন এবং আক্রমণভাগে শেখ মোরসালিনকে কেন্দ্রে রেখে দুই উইংয়ে ছিলেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম প্রায় দুই বছর পর জাতীয় দলে ফেরা রফিকুল ইসলাম।

খেলা স্বাগতিকদের মাঠে হলেও গ্যালারি ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের দখলে। সেই সমর্থনের জোয়ারে ভেসে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ১৯ মিনিটেই আসে প্রথম ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তরুণ প্লে-মেকার শেখ মোরসালিনের দুর্দান্ত এক ক্রসে থেকে নিখুঁত হেডে সান মারিনোর জাল কাঁপান তপু বর্মণ। তবে এই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র ১২ মিনিট। ৩১ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ফিলিপ্পো বেরার্দির রক্ষণচেরা পাসে বল পেয়ে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান ফরোয়ার্ড নিকোলাস জাকোপেত্তি। সমতায় ফেরার পর ম্যাচটি বেশ শারীরিক রূপ নেয়, যার জেরে ৩৩ মিনিটে প্রতিপক্ষকে কড়া ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন রফিকুল ইসলাম।

- সমতায় বিরতি থেকে ফেরার পর দ্বিতীয়ার্ধেও মাঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলতে থাকে। ৫৩ মিনিটে বাংলাদেশের আক্রমণের ধার আবারও ফুটে ওঠে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ফাহিমের নেওয়া জোরালো শটটি গোলপোস্টে প্রতিহত হয়। এরপর ৫৬ থেকে ৬২ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশের রক্ষণে রীতিমতো ঝড় তোলে সান মারিনো। তবে ৬১ মিনিটে লরেঞ্জো কাপিক্কিওনির একটি বিপজ্জনক শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দিয়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন গোলরক্ষক মিতুল মারমা।

মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে ফেরাতে ৬৪ মিনিটে ফাহিমের বদলি হিসেবে ফাহামিদুল ইসলাম এবং রফিকুল ইসলামের জায়গায় ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে মাঠে নামান কোচ ডুলি। ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে সেই রোমাঞ্চকর ক্লাইম্যাক্স। ৮৫ মিনিটে সাদ উদ্দিনকে ফাউল করে বসেন কাপিক্কিওনি। ৮৬ মিনিটে হামজা চৌধুরীর নেওয়া সেই ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সে জটলার সৃষ্টি হয়। বদলি নামা বিশ্বনাথ ঘোষের শটে কপাল ছুঁয়ে দিয়ে আবারও বল জালে পাঠান তপু। বাংলাদেশের জার্সিতে এটি তাঁর অষ্টম গোল।

অন্তিম মুহূর্তে তপুর এই জয়সূচক গোলের পর সেরাফাল্লে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো বাংলাদেশি সমর্থকের উল্লাস যেন আকাশ ছুঁয়ে যায়। স্বাগতিকদের মুহুর্মুহু চাপ আর ইউরোপীয় কন্ডিশনসব বাধা জয় করে তপুর বীরত্বে ইউরোপের মাটিতে উড়ল বাংলাদেশের ঝান্ডা।

ডালাস বার্তা প্রতিবেদক