সস্তা ওষুধে আসবে স্থূলতার বিপক্ষে লড়াইয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন
ভারতে সেমাগ্লুটাইডের পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ওজন কমানোর ওষুধের বাজারে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। এতে দেশীয় কোম্পানিগুলো সস্তা জেনেরিক সংস্করণ আনতে পারবে, যা দাম অর্ধেকের বেশি কমিয়ে দিয়ে ব্যাপকভাবে চিকিৎসা সহজলভ্য করতে পারে—শুধু ভারতেই নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও।
ভারতে সেমাগ্লুটাইডের পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ওজন কমানোর ওষুধের বাজারে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। এতে দেশীয় কোম্পানিগুলো সস্তা জেনেরিক সংস্করণ আনতে পারবে, যা দাম অর্ধেকের বেশি কমিয়ে দিয়ে ব্যাপকভাবে চিকিৎসা সহজলভ্য করতে পারে—শুধু ভারতেই নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও।
ডেনমার্কভিত্তিক কোম্পানি নোভো নরডিস্কের জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধ ওয়েগোভি ও ওজেম্পিকের মূল উপাদান সেমাগ্লুটাইড। পেটেন্ট শেষ হওয়ায় দ্রুত বাজারে প্রায় ৫০টির মতো জেনেরিক ব্র্যান্ড আসতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
বর্তমানে এই ওষুধের মাসিক খরচ ৮,৮০০ থেকে ১৬,০০০ রুপি পর্যন্ত। তবে জেনেরিক আসার পর তা কমে ৩,০০০–৫,০০০ রুপিতে নেমে আসতে পারে। এতে ভারতের ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ডায়াবেটিস চিকিৎসায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সেমাগ্লুটাইড জিএলপি-১ গ্রাহক উদ্দীপক শ্রেণির একটি ওষুধ, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও রক্তে শর্করা কমাতে সাহায্য করে। পেট খালি হওয়ার গতি কমিয়ে দ্রুত পেট ভরা অনুভূতি তৈরি করায় এটি ওজন কমাতে কার্যকর বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারতে ইতোমধ্যে ৭ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং স্থূলতার হারও দ্রুত বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে সস্তা জিএলপি-১ ওষুধ চিকিৎসকদের জন্য নতুন শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
দেশটির বড় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান— সিপ্লা, সান ফার্মা, ডক্টর রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজ, বায়োকন, জাইডাস লাইফসায়েন্সেস—ইতোমধ্যে জেনেরিক উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভারত বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ সরবরাহকারী দেশগুলোর একটি, বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২০% আসে এখান থেকে। অতীতে এই দেশই এইচআইভি চিকিৎসার ওষুধের দাম নাটকীয়ভাবে কমিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চিকিৎসা বিস্তারে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমাগ্লুটাইডও একই ধরনের ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে। কম দামে সহজলভ্য হলে এটি শুধু ভারতে নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন বাজারেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, এই ওষুধ ঝুঁকিমুক্ত নয়। বমি, হজমের সমস্যা, এমনকি প্যানক্রিয়াটাইটিসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। দ্রুত ওজন কমলে পেশি ক্ষয়ও হতে পারে।
আরেকটি বড় উদ্বেগ—অপব্যবহার। ইতোমধ্যে জিম ট্রেইনার, বিউটি ক্লিনিক বা অননুমোদিত উৎস থেকে উচ্চমাত্রায় এই ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা জেনেরিক আসার পর আরও বাড়তে পারে।
ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছে, প্রেসক্রিপশন ওষুধ সরাসরি ভোক্তাদের কাছে প্রচার করা যাবে না এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, সেমাগ্লুটাইডের সস্তা জেনেরিক সংস্করণ একদিকে যেমন স্থূলতা ও ডায়াবেটিস মোকাবিলায় নতুন দিগন্ত খুলতে পারে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি