পাকিস্তানের উদ্যোগ আর খোলা হরমুজ প্রণালির গুরুত্বই পথ দেখাল যুদ্ধবিরতির
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ বিরতিরে কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস সরবরাহপথটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিল তেহরান। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরান প্রণালিটি অবিলম্বে খুলে দেবে, আর এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখবে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ বিরতিরে কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস সরবরাহপথটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিল তেহরান। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরান প্রণালিটি অবিলম্বে খুলে দেবে, আর এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখবে।
ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ট্রাম্পের হামলার হুমকি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই শিবিরেই গভীর উদ্বেগ জন্ম দেয়। তবে চরম সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ওভাল অফিস থেকে এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। ট্রাম্প একে ‘দ্বিমুখী যুদ্ধবিরতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
নিউইয়র্ক টাইমস যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শর্ত মেনে ইরানের ওপর সামরিক হামলা এরই মধ্যে বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে হরমুজ প্রণালি। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে তার প্রধান অগ্রাধিকার হলো বন্ধ করে রাখা হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা।
ট্রাম্প জানান, ইরান অবিলম্বে সম্পূর্ণ ও নিরাপদে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র আগামী দুই সপ্তাহের জন্য তাদের হামলা স্থগিত রাখবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তেহরান পাল্টা আক্রমণ বন্ধ রাখবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দেবে। ট্রাম্প আরও জানান, ইরান আলোচনার জন্য ১০ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যাকে তিনি একটি ‘উপযুক্ত ভিত্তি’ বলে মনে করছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, শেষ মুহূর্তের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে দিনরাত টানা আলোচনা চলেছে। এতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন পাকিস্তান। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হবে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ‘সরাসরি আলোচনার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে, তবে প্রেসিডেন্ট বা হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, নিউইয়র্ক টাইমস