যুদ্ধবিরতির শুরুতেই টানাপোড়েন: হরমুজ ও লেবানন ইস্যুতে বিভ্রান্তি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা—এই দুই ইস্যুতে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা—এই দুই ইস্যুতে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও তেহরান দাবি করছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও রয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লেবানন এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। এ অবস্থায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হামলা অবিলম্বে বন্ধ না হলে ‘আঞ্চলিক আগ্রাসীদের’ বিরুদ্ধে সামরিক জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১১২ জন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পূর্ণ সমন্বয়ে’ করা হয়েছে।
ইউরোপীয় নেতারা অবশ্য ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ লেবাননকেও যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তেহরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে চুক্তির কিছু শর্ত ভঙ্গ করেছে। ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, লেবাননে হামলা চলতে থাকায় এই যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার ভিত্তি ‘অযৌক্তিক’ হয়ে উঠছে। তবে তিনি এখনই চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেননি।
অন্যদিকে, পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় পর পেন্টাগন ইরানে হামলা স্থগিত করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সংঘাতে আহত ৩৮১ সেনার মধ্যে অধিকাংশই ডিউটিতে ফিরেছেন; তিনজন এখনও গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন। এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার শব্দ শোনা গেছে, যদিও এর কারণ স্পষ্ট নয়। একই সময়ে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দাম কমলেও বাস্তবে অনিশ্চয়তা কাটেনি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন নাবিকরা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত ‘স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট’। তার ভাষায়, ওয়াশিংটনকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা যুদ্ধবিরতি চায়, নাকি ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়; ‘দুটো একসঙ্গে সম্ভব নয়’।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস