মধ্যপ্রাচ্যে তীব্রতর হচ্ছে সংঘাত, যুদ্ধ বাড়ানোর হুমকি ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। বুধবার ইরান ইসরায়েল ও পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে হামলা অব্যাহত রাখে, আর একই সময়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিমান হামলা চলতে থাকে। এ অবস্থায় যুদ্ধ থামানো না বাড়ানো—তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তা দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। বুধবার ইরান ইসরায়েল ও পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে হামলা অব্যাহত রাখে, আর একই সময়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিমান হামলা চলতে থাকে। এ অবস্থায় যুদ্ধ থামানো না বাড়ানো—তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তা দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া বন্ধ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেবে’। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।
এর একদিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ওই জলপথে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কোনো ভূমিকা থাকবে না।’ তবে তার আগেই তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা চালানো হতে পারে।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি যদি নিশ্চিত হন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না, তাহলে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে আসতে পারে—এমনকি যুদ্ধবিরতি না হলেও।
তবে ইরান কঠোর অবস্থানই বজায় রেখেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আল জাজিরাকে বলেন, ‘হুমকি ও সময়সীমা দিয়ে ইরানের জনগণের সঙ্গে কথা বলা যায় না। নিজেদের রক্ষার জন্য আমরা কোনো সময়সীমা মানি না।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে। কয়েক সপ্তাহের বিমান হামলার পর সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্প বারবার বলেছেন সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে, আবার একই সঙ্গে তা আরও বিস্তারের হুমকিও দিয়েছেন। এর মধ্যে ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল রপ্তানি কেন্দ্রেও হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অনিশ্চিত
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফা একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা। তবে তেহরান দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির খবরে এক কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে হলে প্রণালীর ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবিও রয়েছে তেহরানের।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত দাবি ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা
বুধবার কাতারের উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে জানিয়েছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে দুবাইয়ের কাছে একটি কুয়েতি তেলবাহী জাহাজেও হামলা হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান অন্তত ২০টির বেশি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শহরে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি জ্বালানি ট্যাংকে ড্রোন আঘাত করলে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।
জর্ডান জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদি আরবেও দুটি ড্রোন আটকানো হয়েছে।
ইসরায়েল-লেবানন ফ্রন্টেও সংঘাত
ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে বুধবার ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতার সাইরেন বাজতে শোনা গেছে। শহরে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া শুরু করার পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে অভিযান শুরু করে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত সেখানে ১,২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সময়ে ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,৯০০ ছাড়িয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইসরায়েলে নিহত হয়েছে অন্তত ১৯ জন।
উপসাগরীয় অঞ্চল ও পশ্চিম তীর মিলিয়ে আরও কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে, আর সংঘাতে ১৩ জন মার্কিন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: এপি