দীর্ঘতম আংশিক শাটডাউনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা
যুক্তরাষ্ট্রে আংশিক সরকারি শাটডাউন ইতিহাসের দীর্ঘতমে পরিণত হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থার জেরে টানা ৪৪ দিন ধরে এই সংকট চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আংশিক সরকারি শাটডাউন ইতিহাসের দীর্ঘতমে পরিণত হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থার জেরে টানা ৪৪ দিন ধরে এই সংকট চলছে।
এতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চৌকিগুলোয় ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) কর্মকর্তাদের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে, কারণ শাটডাউন শুরুর পর থেকে তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে শত শত কর্মী চাকরি ছেড়েছেন, হাজারো কর্মী অনুপস্থিত থাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে দেশজুড়ে বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে টিএসএ কর্মীদের বেতন দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, কারণ সরকারি ব্যয় অনুমোদনের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে।
হোয়াইট হাউসের বর্ডার জার টম হোমান জানিয়েছেন, সংকট সামাল দিতে বিমানবন্দরে মোতায়েন করা হয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) সদস্যদের, এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা থাকবেন।
আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ার মূলে রয়েছে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অর্থায়ন নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের বিরোধ। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি তদারককারী এই বিভাগের অর্থায়নের বিরোধিতা করছে। তারা দাবি করছে যে, আইসিএ এজেন্টদের মাস্ক পরা নিষিদ্ধ করা এবং বর্ণবাদী প্রোফাইলিং বন্ধ করার মতো সংস্কার ছাড়া তারা এই বিলে সমর্থন দেবে না। অন্যদিকে, হাউজের রিপাবলিকানরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং ভোটার আইডি সংক্রান্ত শর্তের অর্থায়ন ছাড়া তারা কোনো বিলে সমর্থন দেবেন না।
রবিবার ট্রাম্প আবারও কংগ্রেসকে বিল পাসের তাগিদ দেন। অভিবাসন সংস্থাগুলোর জন্য অর্থ বরাদ্দহীন কোনো বিলে তিনি স্বাক্ষর করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশের কল্যাণের জন্য আইসিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ এবং এই পরিস্থিতির জন্য তিনি ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেন।
অভিবাসন নিয়ে এই অচলাবস্থার কারণে টিএসএ কর্মকর্তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বেতন না পাওয়ায় অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন অথবা অসুস্থতার অজুহাতে কাজে আসছেন না। ডিএইচএস-এর তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন।
শাটডাউনের প্রভাবে বিমানবন্দরে দীর্ঘ সারি, ফ্লাইট বিলম্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু গত শুক্রবারই ৩,৫০০-এর বেশি টিএসএ কর্মী অনুপস্থিত ছিলেন, যা মোট জনবলের প্রায় ১২ শতাংশ।
তথ্যসূত্র: বিবিসি