অভিবাসন দমনে আবাসন খাত ব্যবহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারে এবার আবাসন খাতকে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ফেডারেল আবাসন সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অফ হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট (এইচইউডি) এখন কারা সরকারি আবাসন সুবিধা পাবে, আর কারা পাবে না-সেদিকে বাড়তি নজর দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারে এবার আবাসন খাতকে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ফেডারেল আবাসন সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অফ হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট (এইচইউডি) এখন কারা সরকারি আবাসন সুবিধা পাবে, আর কারা পাবে না-সেদিকে বাড়তি নজর দিচ্ছে।
আইন অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীরা সরাসরি ফেডারেল আবাসন সহায়তা পায় না। তবে এতদিন তারা এমন পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারত, যেখানে অন্য সদস্যরা বৈধভাবে সুবিধা পেতেন। নতুন প্রস্তাবে এই ‘মিশ্র-মর্যাদার’ পরিবারগুলোকেও পুরোপুরি বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিপার্টমেন্ট অফ হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট ইতোমধ্যে হাজারো উপকারভোগীর তথ্য যাচাই শুরু করেছে এবং স্থানীয় আবাসন কর্তৃপক্ষগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কাগজপত্র পুনরায় পরীক্ষা করতে। পাশাপাশি একটি নতুন নীতিমালা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে—অবৈধ অভিবাসী থাকা পরিবার পুরোপুরি আবাসন সুবিধা হারাতে পারে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে এসব তথ্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে শেয়ার করতে হতে পারে। এর ফলে অনেক পরিবারকে হয় আলাদা হতে হবে, নয়তো পুরো সহায়তা হারাতে হবে।
আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপে বাড়ির ঘাটতি কিংবা উচ্চ ভাড়ার মতো প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে না। বরং এতে বৈধ নাগরিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। একটি হিসাব অনুযায়ী, একজন অযোগ্য ব্যক্তিকে সরালে গড়ে তিনজন যোগ্য ব্যক্তিও সহায়তা হারাতে পারেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে স্থানীয় আবাসন সংস্থাগুলোও উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের মতে, অভিবাসন যাচাই করা তাদের কাজ নয়, এতে তারা অপ্রয়োজনীয় চাপের মুখে পড়ছে এবং উপকারভোগীদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এইচইউডি সচিব স্কট টার্নার বলেছেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য করদাতাদের অর্থ সুরক্ষা করা এবং নিশ্চিত করা যে সরকারি সুবিধা শুধু যোগ্য মার্কিন নাগরিকরাই পাবেন। প্রশাসনের দাবি, এতে আবাসন খরচ কমবে এবং অপেক্ষমাণ তালিকাও ছোট হবে।
তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এই নীতিমালা কার্যকর হলে হাজারো পরিবার ভেঙে যেতে পারে এবং বিশেষ করে শিশুদের আবাসন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।
তথ্যসূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট