ইরানের এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ছিল না ট্রাম্প প্রশাসনের
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর আগে দেশটির সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে গুরুতর ভুল হিসাব করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার শীর্ষ উপদেষ্টারা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের কঠোর পাল্টা পদক্ষেপে তেলের বাজার, শিপিং রুট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বড় ধরনের অস্থিরতায় পড়ে—যা ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বানুমানের সঙ্গে মেলেনি।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর আগে দেশটির সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে গুরুতর ভুল হিসাব করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার শীর্ষ উপদেষ্টারা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের কঠোর পাল্টা পদক্ষেপে তেলের বাজার, শিপিং রুট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বড় ধরনের অস্থিরতায় পড়ে—যা ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বানুমানের সঙ্গে মেলেনি।
যুদ্ধের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকেই মনে করেছিলেন, সংঘাত হলেও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আগের সংঘাতে তেলের দাম সাময়িক বাড়লেও দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ইরান হুমকি দেয় যে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলা চালাতে পারে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। হুমকির পর উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
একই সঙ্গে ইরান আগের সংঘাতের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখায়। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, বিভিন্ন আরব দেশের শহর এবং ইসরায়েলের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়েছে—দূতাবাস খালি করা থেকে শুরু করে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য নীতিমালা তৈরির চেষ্টা পর্যন্ত। এদিকে কংগ্রেসে গোপন ব্রিফিংয়ের পর কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস্টোফার এস. মার্ফি বলেন, হরমুজ প্রণালির সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও যুদ্ধ শেষ করার সুস্পষ্ট কৌশল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করছেন, সামরিক অভিযান সফল হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তুলনামূলক সীমিত লক্ষ্য সামনে আনছেন—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, সংশ্লিষ্ট কারখানা এবং নৌবাহিনী ধ্বংস করা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুদ্ধ থেকে দ্রুত বের হওয়ার সম্ভাব্য পথ তৈরি করার ইঙ্গিত।
হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রশাসনের একটি ‘দৃঢ় পরিকল্পনা’ ছিল এবং সংঘাত শেষ হলে তেলের বাজারও স্থিতিশীল হয়ে আসবে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস