ভেঙে দেওয়া হলো পরিচালনা পর্ষদ, বিসিবির অ্যাডহক কমিটিতে তিন মন্ত্রীর ছেলে, এক প্রতিমন্ত্রীর বউ
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টাও বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ছিলেন পূর্বাচল ক্রিকেট মাঠে। কীভাবে মাঠটিকে আরও বেশি কাজে লাগানো যায়, সে ভাবনা থেকেই মাঠটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে থেকে বিসিবি কার্যালয়ে এসেই জানতে পারেন, ভেঙে দেওয়া হয়েছে বোর্ড। বুলবুল বিসিবি কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই সেখানে প্রবেশ করেন নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল।
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টাও বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ছিলেন পূর্বাচল ক্রিকেট মাঠে। কীভাবে মাঠটিকে আরও বেশি কাজে লাগানো যায়, সে ভাবনা থেকেই মাঠটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে থেকে বিসিবি কার্যালয়ে এসেই জানতে পারেন, ভেঙে দেওয়া হয়েছে বোর্ড। বুলবুল বিসিবি কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই সেখানে প্রবেশ করেন নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল।
বুলবুলদের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এরপর সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করেন ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান।
গত বছরের ৬ অক্টোবর বিসিবির নির্বাচনের পর থেকে তামিম ও তাঁর সমমনা সংগঠকেরা বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ অবৈধ দাবি করে আসছিলেন। সেই নির্বাচনে তামিম অংশ নিতে গিয়েও শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ান। তাঁদের লাগাতার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তদন্ত কমিটি করা হয় এবং রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। তদন্ত কমিটির প্রধান উচ্চ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সেদিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তাঁরা কাউকে অভিযুক্ত করেননি, তবে গঠনতন্ত্রের সুপারিশ করেছেন। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দুই দিনের মধ্যে ভেঙে দেওয়া হয়েছে বিসিবির আগের কমিটি। এনএসসি পরিচালক আমিনুল এহসান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তামিমের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে আছেন রাশনা ইমাম, আতহার আলী খান, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, রফিকুল ইসলাম বাবু, সালমান ইস্পাহানি, তানজিল চৌধুরী, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ ও ফাহিম সিনহা।
তামিমসহ সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, সালমান ইস্পাহানি—এই পাঁচজন চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা। মির্জা ইয়াসির আব্বাস প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে এবং ইসরাফিল খসরু অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরুর ছেলে। রাশনা ইমাম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী।
এনএসসির অধীনে ৫২টি ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। এর মধ্যে বিসিবিও অন্তর্ভুক্ত। বিসিবির বর্তমান গঠনতন্ত্রে (২০২৪ সালে সংশোধিত) অ্যাডহক কমিটির উল্লেখ নেই। সর্বশেষ তিন নির্বাচনের কোনোটিই অ্যাডহক কমিটির অধীনে হয়নি। তবু কেন হঠাৎ অ্যাডহক কমিটির কথা উঠে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এনএসসি অ্যাক্ট, ২০১৮-এর ধারা ২১ অনুযায়ী, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন, চুক্তি বা আইনি দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পরিষদ জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা বা তফসিলে উল্লিখিত ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটি, উহা যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করিতেছে না বা সংস্থার স্বার্থের পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করিতেছে মর্মে পরিষদের নিকট প্রতীয়মান হলে, উক্ত নির্বাহী কমিটি ভেঙে দিতে পারবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং প্রয়োজনে একটি অ্যাডহক কমিটি নিয়োগ করতে পারবে।
আমিনুল এহসান বলেন, ‘বিসিবি সংবিধানের ৯.৩. ৩ ধারা অনুযায়ী, সভাপতি এককভাবে ১০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর মনোনয়নের ক্ষমতা রাখেন না। বিসিবি সভাপতি হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুল একপক্ষীয়ভাবে ১০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন করে তার ক্ষমতার বাইরে কাজ করেছেন। এটি স্পষ্ট ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন।’ অথচ বিসিবির গঠনতন্ত্রের ৯.৩.৩ ধারায় লেখা আছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন খেলোয়াড়বৃন্দের মধ্য থেকে ১০ জনকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করতে পারবে।’
কিন্তু আইসিসির অনুমোদিত বিসিবির গঠনতন্ত্রে যেখানে অ্যাডহক কমিটির অস্তিত্বই নেই, তামিমদের নেতৃত্বে সেই কমিটি নতুন নির্বাচন আয়োজন করলে সেটার কি গ্রহণযোগ্যতা পাবে? আইসিসির নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা নিয়ে আমিনুল এহসান বলেন, ‘ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়নে, জনমনে ক্রিকেট সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য, মানুষের আশঙ্কা এবং সন্দেহ দূর করার জন্য এনএসসি এই উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা আশা করছি আইসিসি থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক জবাব আমরা শিগগির পেয়ে যাব।’
সূত্র জানায়, আইসিসি যেন নিষেধাজ্ঞা না দেয়, সে লক্ষ্যে এরই মধ্যে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহর সবুজসংকেত নিয়েই অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে আইসিসি মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বিসিবির অ্যাডহক কমিটির অনুমোদনের বিষয়ে কোনো বিবৃতি বা সিদ্ধান্ত জানায়নি।
সন্ধ্যায় অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের নিয়ে সংক্ষিপ্ত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তামিম। বিসিবির ইতিহাসে তিনি যেমন সর্বকনিষ্ঠ বোর্ড সভাপতি, তাঁর সংবাদ সম্মেলনও হলো সংক্ষিপ্ত সময়ের। তামিমদের এই কমিটির মূল দায়িত্ব—তিন মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা। কিন্তু তাঁরাও কি সেই নির্বাচনে অংশ নেবেন? সরাসরি না বললেও তামিমের উত্তরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিতই রইল, ‘অবশ্যই, অবশ্যই আমরা ইলেকশন করব।’
ডালাস বার্তা প্রতিবেদক