সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে গুলি, বন্দুকধারীসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর এক ইসলামিক সেন্টারে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই বন্দুকধারীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মসজিদের এক নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছেন। হামলার পর দুই সন্দেহভাজনকে একটি গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

May 18, 2026 - 21:21
সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে গুলি, বন্দুকধারীসহ নিহত ৫
সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে। ছবি: এপি’র সৌজন্যে

যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর এক ইসলামিক সেন্টারে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই বন্দুকধারীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মসজিদের এক নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছেন। হামলার পর দুই সন্দেহভাজনকে একটি গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার সান ডিয়েগো পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজনদের একজনের বয়স ১৭ এবং অন্যজনের ১৮ বছর। সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তারা আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ এই ঘটনাকে সম্ভাব্যহেট ক্রাইমহিসেবে তদন্ত করছে।

স্কট ওয়াহল জানান, সোমবার ভোরে সন্দেহভাজনদের একজনের মা পুলিশকে ফোন করে জানান, তাঁর ছেলে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, ছেলেটি আত্মহত্যাপ্রবণ অবস্থায় রয়েছে এবং তাঁর গাড়ি কয়েকটি অস্ত্র নিয়ে বের হয়েছে। ওই তরুণের সঙ্গে আরেকজনও ছিল বলে জানান তিনি।

হুমকির আশঙ্কায় পুলিশ সংশ্লিষ্ট এক স্থানীয় হাইস্কুলে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে। একই সময়ে ইসলামিক সেন্টারের কয়েক ব্লক দূরে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলছিলেন কর্মকর্তারা। এর মধ্যেই দুপুরের কিছু আগে গুলির প্রথম খবর আসে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে ৫০ থেকে ১০০ জন কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়। ভবনটির কক্ষগুলো তল্লাশি করার সময় আরেকটি ফোন আসেসেখানে বলা হয়, কাছাকাছি কাজ করা এক ল্যান্ডস্কেপ কর্মীর দিকে গুলি ছোড়া হয়েছে, যদিও তিনি আহত হননি।

এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি ফোনে জানানো হয়, দুই সন্দেহভাজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একটি গাড়িতে দেখা গেছে। পরে পুলিশ গাড়িটি খুঁজে পেয়ে ঘটনাস্থলেই দুজনকে মৃত ঘোষণা করে।

সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টার শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় মাইল উত্তরে একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। পুলিশ বলছে, হামলার আগে মসজিদটির বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য তাদের কাছে ছিল না।

ইসলামিক সেন্টারের ইমাম তাহা হাসানে বলেন, “কোনো উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য ঘটনা। মানুষ এখানে নামাজ পড়তে, উদযাপন করতে এবং শিখতে আসে। এদিন সকালেও অমুসলিমদের একটি দল আমাদের ধর্ম সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এসেছিল।

আকাশপথে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, এক ডজনের বেশি শিশু হাত ধরে ইসলামিক সেন্টারের পার্কিং এলাকা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রটির ভেতরে থাকা স্কুলের কোনো শিশু বা কর্মী আহত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “ঘৃণার কোনো স্থান সান ডিয়েগোতে নেই। ইসলামবিদ্বেষ এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, “কেউ তার পরিচয়, বিশ্বাস বা প্রার্থনার কারণে হামলার শিকার হলে, সেটি আমাদের সবার ওপর হামলা।

দুপুরের দিকে সংবাদ সম্মেলনে ইমাম তাহা হাসানে বলেন, “সহনশীলতা ভালোবাসার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। সমাজকে রক্ষা করতে প্রত্যেকেরই কিছু করার আছে।

কমপক্ষে ৩০ রাউন্ড গুলি

ঘটনার সময় ইসলামিক সেন্টারের কাছেই দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা আন্দ্রে নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, “আমি অন্তত এক ডজন গুলির শব্দ শুনেছি, যেগুলো সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র থেকে ছোড়া বলে মনে হয়েছে। এরপর কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে আবার এক ডজন, তারপর আবার। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ রাউন্ড গুলি হয়েছে বলে মনে হয়েছে।

আন্দ্রে জানান, তিনি ৯১১ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ জানতে চায়, মসজিদ এলাকা থেকে দ্রুতগতিতে কোনো গাড়ি বেরিয়ে যেতে দেখেছেন কি না। কয়েক মিনিট পর তিনি পুলিশের সাইরেন হেলিকপ্টারের শব্দ শুনতে পান।

তিনি বলেন, “শুক্রবার হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। জুমার দিনে এখানে অনেক মানুষের ভিড় থাকে।

ইসলামিক সেন্টারটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এটি সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ। ক্যাম্পাসে থাকা আল-রশিদ স্কুলে আরবি ভাষা, ইসলামিক স্টাডিজ কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: ডব্লিউএফএএ