যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা কর্মসূচিতে বড় জালিয়াতি, ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী নজরদারিতে
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা স্টেম অপশনাল প্র্যাক্টিক্যাল ট্রেনিং কর্মসূচিকে ঘিরে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই। সংস্থাটি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যুক্ত ১০ হাজারের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা স্টেম অপশনাল প্র্যাক্টিক্যাল ট্রেনিং কর্মসূচিকে ঘিরে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই। সংস্থাটি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যুক্ত ১০ হাজারের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লায়ন্স বলেন, এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে তা “হিমশৈলের চূড়ামাত্র”।
অপশনাল প্র্যাক্টিক্যাল ট্রেনিং হলো যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কর্মসূচি, যার মাধ্যমে তারা পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত খাতে অস্থায়ীভাবে কাজ করার সুযোগ পান। অপশনাল প্র্যাক্টিক্যাল ট্রেনিং এক্সটেনশনের মাধ্যমে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সময় কাজের অনুমতি পান।
টড লায়ন্সের দাবি, সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে চালু এবং পরে বারাক ওবামা প্রশাসনে সম্প্রসারিত এই কর্মসূচি মূলত সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীর প্রশিক্ষণের জন্য তৈরি হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে এটি “নিয়ন্ত্রণহীন গেস্ট ওয়ার্কার পাইপলাইনে” পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “শত শত হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী এখন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছে। কর্মসূচির পরিধি যত বেড়েছে, জালিয়াতিও তত বেড়েছে।”
আইসিই জানিয়েছে, তদন্তকারীরা ভার্জিনিয়া, টেক্সাস, জর্জিয়া, ইলিনয়, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ফ্লোরিডায় সন্দেহভাজন বিভিন্ন কর্মস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাদের দাবি, অনেক প্রতিষ্ঠানই বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও পরিচয়ে পরিচালিত হচ্ছিল।
তদন্তে এমন অনেক ঠিকানা পাওয়া গেছে, যেখানে শত শত বিদেশি শিক্ষার্থী কাজ করার দাবি করলেও সেখানে ছিল খালি ভবন বা তালাবদ্ধ অফিস। আবার কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কর্মস্থল হিসেবে আবাসিক বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।
আইসিই আরও জানায়, একাধিক অপশনাল প্র্যাক্টিক্যাল ট্রেনিং নিয়োগদাতা একই ঠিকানা ব্যবহার করলেও বাস্তবে তাদের কেউই ওই স্থাপনা ভাড়া নেয়নি। অনেক ক্ষেত্রে দরজা খুললেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে অথবা তারা প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।
টড লায়ন্স “ফ্যান্টম এমপ্লয়ি” বা ভুয়া কর্মীর কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিদেশি শিক্ষার্থী অপশনাল প্র্যাক্টিক্যাল ট্রেনিং মাধ্যমে কাজের অনুমতি নিলেও তারা কখনও ঘোষিত কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। তিনি বলেন, “এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটি পরিকল্পিত, সমন্বিত এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।”
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে প্রশাসনের জালিয়াতি দমন বিষয়ক প্রধান বা “ফ্রড জার” হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে উল্লেখ করে ভ্যান্স এক্সে দেওয়া পোস্টে এটিকে “প্রতারণাবিরোধী টাস্কফোর্সের আরেকটি বড় সাফল্য” বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “আমেরিকান জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার আমরা মেনে নেব না।”
তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ