ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলার, মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

May 12, 2026 - 15:06
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলার, মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি’র সৌজন্যে

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেছেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি সাময়িক এবং যুদ্ধ শেষ হলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমাদের মূল্যস্ফীতি শুধু স্বল্পমেয়াদি।তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান দশমিক শতাংশ মূল্যস্ফীতি কমে দশমিক শতাংশে নেমে আসবে। তার ভাষায়, “এই যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেই তেলের দাম কমে যেতে দেখবেন।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জে হার্স্ট কংগ্রেসের এক শুনানিতে জানান, শুরুতে ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছিল। তবে নতুন বিশ্লেষণে তা বেড়ে এখন ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

তার মতে, সামরিক সরঞ্জাম মেরামত প্রতিস্থাপন ব্যয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় মোট ব্যয় দ্রুত বাড়ছে।

তবে এই হিসাবেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে জানান হার্স্ট। তিনি বলেন, এখনো নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়েছে মার্কিন অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) বেড়েছে শূন্য দশমিক শতাংশ। মার্চে এই হার ছিল শূন্য দশমিক শতাংশ। ফলে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে দশমিক শতাংশে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে দশমিক শতাংশ। গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে দশমিক শতাংশ এবং ফুয়েল অয়েলের দাম বেড়েছে দশমিক শতাংশ।

খাদ্যপণ্যের বাজারেও চাপ বেড়েছে। মুদি পণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক শতাংশ। গরুর মাংস, ফল, সবজি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

নেভি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিদার লং বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রেআর্থিক চাপতৈরি হয়েছে। তার মতে, মূল্যস্ফীতি এখন মানুষের আয় বৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক সংঘাত নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি জ্বালানি সংকট রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি করছে।

ডালাস বার্তা ডেস্ক