মায়ের কবরের পাশে শায়িত আতাউর রহমান

আগে থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়েছিলেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরা। মঙ্গলবার বিকেলে আতাউর রহমানের মরদেহ যখন নেওয়া হলো সেখানে, ফুলেল শ্রদ্ধা আর নীরব ভালোবাসায় সর্বস্তরের মানুষ স্মরণ করেন বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের বরেণ্য এই ব্যক্তিত্বকে।

May 12, 2026 - 14:22
মায়ের কবরের পাশে শায়িত আতাউর রহমান
আতাউর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

আগে থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়েছিলেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরা। মঙ্গলবার বিকেলে আতাউর রহমানের মরদেহ যখন নেওয়া হলো সেখানে, ফুলেল শ্রদ্ধা আর নীরব ভালোবাসায় সর্বস্তরের মানুষ স্মরণ করেন বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের বরেণ্য এই ব্যক্তিত্বকে।

নাট্যকার, অভিনয়শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠক শুভানুধ্যায়ীরা আতাউর রহমানকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, ছায়ানট, উদীচী, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, ঢাকা থিয়েটারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

শহীদ মিনারে রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে দাফন করা হয় বনানী কবরস্থানে তাঁর মায়ের কবরের পাশে।

এর আগে সোমবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে রাজধানী ঢাকার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন একুশে পদক স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নাট্যব্যক্তিত্ব। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। আগামী জুনে ৮৫ বছরে পা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর।

আতাউর রহমানের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী বিষয় হয়ে উঠেছে তাঁর বিবাহবার্ষিকীর দিনেই জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে চলে যাওয়া। নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার জানান, ১১ মে ছিল আতাউর রহমান তাঁর স্ত্রী শাহিদা রহমানের বিবাহবার্ষিকী। সেই বিশেষ দিনেই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।

১০ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর সোমবার দিবাগত রাতে মারা যান এই নাট্যজন। আগামী জুনে তাঁর ৮৫ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। গত মে বাসায় পড়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাঁকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনিগডোর প্রতীক্ষায়’, ‘রক্তকরবী’, ‘গ্যালিলিও’, ‘এখন দুঃসময়সহ বহু আলোচিত নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন। নাট্যচর্চার পাশাপাশি শিক্ষকতা, লেখালেখি অভিনয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, আফ্রো-এশীয় গণসংহতি পরিষদের সাবেক সদস্য আতাউর রহমান বাংলাদেশ নাটকের আপিল কমিটি চলচ্চিত্র জুরিবোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ শাখার, পরে বিশ্ব শাখার সভাপতিও ছিলেন এই নাট্যব্যক্তিত্ব। দেশের সংস্কৃতি নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আতাউর রহমান পেয়েছেন একুশে পদক স্বাধীনতা পুরস্কার।

ডালাস বার্তা প্রতিবেদক