হান্টাভাইরাস আতঙ্কে ক্রুজ জাহাজ থেকে মার্কিনিদের সরিয়ে নেওয়া শুরু
স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ উপকূলে হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ক্রুজ জাহাজ এমভি হন্ডিয়াস থেকে মার্কিন যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় যাত্রীদের বিশেষ ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়।
স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ উপকূলে হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ক্রুজ জাহাজ এমভি হন্ডিয়াস থেকে মার্কিন যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় যাত্রীদের বিশেষ ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়।
জাহাজটিতে থাকা ১৭ জন মার্কিন নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এক ব্রিটিশ নাগরিককে বিশেষ পর্যবেক্ষণের জন্য নেব্রাস্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের জাতীয় কোয়ারেন্টিন ইউনিটে নেওয়া হবে। উচ্চ ঝুঁকির সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করতেই এই ইউনিট বিশেষায়িত।
পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছে অবস্থিত টেনেরিফ দ্বীপে পৌঁছানোর পরপরই যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়। মাস্ক ও পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা পোশাক পরা যাত্রীদের ছোট নৌকায় করে তীরে আনা হয় এবং সাধারণ মানুষের সংস্পর্শ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়।
গ্রানাডিলা পোর্টে যাত্রীদের গ্রহণের জন্য বিশেষ মেডিকেল টেন্ট স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে বাসে করে বিমানবন্দরে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে।
প্রথম ফ্লাইটে থাকা ১৪ জন স্প্যানিশ যাত্রীকে মাদ্রিদে পাঠানো হয়েছে বলে জানান স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া। এছাড়া ফ্রান্স, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের যাত্রীদের বহনকারী ফ্লাইটও প্রস্তুত ছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) শুক্রবার জানায়, জাহাজটিতে ছয়টি নিশ্চিত ও দুটি সন্দেহভাজন হান্টাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন, যাদের দুজনের মৃত্যু হয়েছে জাহাজেই।
ডব্লিউএইচও প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম এবং আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তাঁর ভাষায়, ‘বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন অনুযায়ী ঝুঁকি কম।’
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মূত্র, লালা বা বর্জ্যের সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। তবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অ্যান্ডিস ধরনের ভাইরাসটি মানুষে মানুষেও ছড়াতে পারে, যদিও তার জন্য ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ প্রয়োজন।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি উশুয়ায়া থেকে যাত্রা শুরুর এক মাস পর ২ মে প্রথম গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতার ক্লাস্টার শনাক্ত হয়। তখন জাহাজটিতে ১৪৭ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন।
প্রথম মৃত্যু ঘটে ১১ এপ্রিল, যখন এক ডাচ নাগরিক জাহাজে মারা যান। পরে তার স্ত্রী দক্ষিণ আফ্রিকার একটি ক্লিনিকে মারা যান। তৃতীয় মৃত্যু ঘটে ২ মে, মারা যান এক জার্মান নারী।
ক্রুজ অপারেটর ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, জাহাজটি পরবর্তীতে নেদারল্যান্ডসের রটারডামে যাবে এবং সেখানে জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
ডব্লিউএইচও বলছে, হান্টাভাইরাসে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে এবং বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। জাহাজটির যাত্রীদের গড় বয়স ছিল ৬৫ বছর।
তথ্যসূত্র: এনবিসি ৫