২০৪০ সালের মধ্যে টেক্সাসের ৯% পানি ব্যবহৃত হতে পারে ডাটা সেন্টারে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল অবকাঠামোর দ্রুত বিস্তারের কারণে টেক্সাসে ডাটা সেন্টারের পানি ব্যবহার আগামী দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে ডাটা সেন্টারগুলো রাজ্যের মোট পানি ব্যবহারের ৩ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল অবকাঠামোর দ্রুত বিস্তারের কারণে টেক্সাসে ডাটা সেন্টারের পানি ব্যবহার আগামী দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে ডাটা সেন্টারগুলো রাজ্যের মোট পানি ব্যবহারের ৩ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে।
‘ওয়াটার ইউজ রিকোয়ারমেন্টস ফর ডাটা সেন্টার্স ইন টেক্সাস’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে বলা হয়, বর্তমানে ডাটা সেন্টারগুলো টেক্সাসের মোট পানির ১ শতাংশেরও কম ব্যবহার করে। তবে শিল্পটির সম্প্রসারণ, সার্ভার ঠান্ডা রাখার প্রযুক্তি এবং বিদ্যুতের উৎসের ওপর নির্ভর করে এই ব্যবহার দ্রুত বাড়তে পারে।
টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অব ইকোনমিক জিওলজির পোস্টডক্টরাল ফেলো মারিয়াম আরজুমানিয়ান জানিয়েছেন, ডাটা সেন্টারের পানি ব্যবহার নিয়ে এখনো বেশ অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘মানুষ এখনো বুঝতে পারছে না ভবিষ্যতে কত পরিমাণ পানির প্রয়োজন হবে। কোন ধরনের কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে এবং সেগুলো কত পানি ব্যবহার করে— তা নিয়েও একক কোনো ধারণা নেই।’
গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে টেক্সাসে ৪০০টির বেশি ডাটা সেন্টার চালু রয়েছে বা নির্মাণাধীন। এর মধ্যে পূর্ব টেক্সাসেও বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প পরিকল্পনায় রয়েছে। এআই প্রযুক্তির চাহিদা বাড়তে থাকায় এই শিল্পের সম্প্রসারণও দ্রুত হচ্ছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ডাটা সেন্টারে পানি ব্যবহারের দুটি বড় ক্ষেত্র রয়েছে— সার্ভার ঠান্ডা রাখতে সরাসরি পানি ব্যবহার এবং সেগুলো চালাতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে পানি ব্যবহার। টেক্সাসে বিদ্যুতের বড় অংশ আসে প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও পারমাণবিক শক্তি থেকে, যেগুলোতেও কুলিংয়ের জন্য বিপুল পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয়।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ব্যুরো অব ইকোনমিক জিওলজির কম্পাস গবেষণা কনসোর্টিয়াম। তারা ডাটা সেন্টার শিল্পের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছে। ডাটা সেন্টার অপারেটর, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ বাড়ানো, পানি সংকটপূর্ণ এলাকায় ভবিষ্যৎ শিল্প সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট মানচিত্র ও হিসাব তৈরি এবং পানি, বিদ্যুৎ, ভূমি ব্যবহার ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে একসঙ্গে বিবেচনায় এনে সমন্বিত পরিকল্পনা কাঠামো গড়ে তোলার সুপারিশ করেছেন গভেষকেরা।
টেক্সাসে পানি ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় এখনই সমন্বিত নীতিমালা তৈরি না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা গভেষকদের।
তথ্যসূত্র: কেএক্সএএন নিউজ